সাতকানিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

news-image

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত উত্তর এওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালের অংশ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ছে মাটিতে, ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ও পিলারের রড বেরিয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই আতঙ্কের মধ্যে চলছে পাঠদান। এই নিয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্কুলের কার্যকম।

বিদ্যালয়টি ১৮৯২ সালে মরহুম আব্দুর রহমান প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন এবং তার দুই ছেলে আহামুদুল হক সিকদার মাহামুদুল হক সিকদার বিদ্যালয়ের নামে ২২ শতক জায়গা দান করেন। বিদ্যালয়টিতে প্রথমে মাটির ভবনে কার্যক্রম শুরু হলেও তা বন্যায় ধসে পড়ে। পরে টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়, সেটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকটে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করছে দীর্ঘদিন ধরে।

১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণ ত্রুটির কারণে ২৪ বছরের মধ্যেই সেটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অফিস কক্ষসহ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি হলে দেয়ালে পানি ঢুকে ভবনের তলা ভিজে যায়।

২০২২ সালে প্রহেলা সেপ্টেম্বর এনবিআইডিজিপিএস প্রজেক্টের উত্তর এওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মানের জন্য ১’কোটি ২৫’লক্ষ ৯৭৫৮২ টাকা বরাদ্ধ আসে যেটি এম এস কেয়া কর্পোরেশন কাজটি দায়িত্ব পান। তবে জায়গা সংকট এবং জটিলতার কারন দেখিয়ে কাজটির বরাদ্ধ বাতিল করে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর চুক্তিটি বাতিল করে, ২০২৪ সালের ২৩ জুন ঠিকাদার চুক্তি বাতিল করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায়ই স্কুলের ছাদের বালি-সিমেন্ট খসে পড়ে। তাই পড়াশোনার চেয়ে ছাদের দিকেই চোখ থাকে বেশি। আমাদের একটি নিরাপদ প্রতিষ্ঠান দরকার।

স্থানীয় অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তান স্কুলে যায় শিখতে,কিন্তু স্কুল ভবন জরাজির্ণ হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে ঝুঁকিতে আছো।স্কুলের সমস্যা দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি।

উত্তর এওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তি রাণী ধর জানান, বিদ্যালয়ে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। দুই শিফটে ক্লাস চালাতে হয়। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে গাদাগাদি করে হলেও পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভবনটি টেন্ডার হয়েও জায়গার সমস্যা দেখিয়ে টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় এবং সুস্থ এবং সুন্দর ভাবে পাঠ দানের জন্য ভবন সমস্যাটির দ্রুত একটি সমাধান চাই।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল বাশার ওমর ফারুক বলেন, স্কুলের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি নতুন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবনা পাঠাবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, স্কুলের প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারটি জায়গা ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল হয়ে গেছে। তাই নতুন উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা চেষ্টা নতুন একটি টেন্ডারের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর উপজেলা ইন্জিনিয়ার’কে অবগত করেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের জরুরি।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি