মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

news-image

আবু আলী : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উচ্চ মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জ¦ালানি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান রয়েছে অগ্রাধিকারের তালিকায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ শতাংশ। বিবিএসের ওয়েজ রেট ইনডেক্স বা মজুরি হার সূচকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৯ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ পিছিয়ে ছিল। সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির কারণে মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর চাপ আরও বাড়বে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যাতায়াত ব্যয় বাড়লে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। পরিবারগুলোকে বাড়তি খরচ সামলাতে হচ্ছে, কিন্তু আয় বা মজুরি বাড়ছে না।

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে বাড়তি ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে আশা করা হয়েছিল, এ বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৫ লাখে নেমে এসেছে। বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দিনে ৩ ডলার আয়ের হিসাবে একই সময়ে নতুন করে আরও ১৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়বে- আসন্ন জাতীয় বাজেটে এমন কোনো নীতি গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আক্তার হোসেন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারকে জনপ্রিয়তাভিত্তিক বাজেট না দিয়ে বরং সতর্ক ও সংকোচনমূলক বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ যত কম হবে ততই ভালো। এমন বাজেট দেওয়া উচিত নয় যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি