ভারতে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ভারতে বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ২৪ জন বিশেষজ্ঞ ভারতের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তের আহ্বান জানান। তাঁদের ভাষ্য, বিক্ষোভ চলাকালে অনেকেই আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ব্যবহার, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়নের অভিযোগও উঠেছে।
বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জসহ বিভিন্ন ধরনের বলপ্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি হাজারো মানুষকে বিক্ষোভে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
ভারতে চলতি মাসে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতৃত্বে এসব বিক্ষোভ চলছে। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দরিদ্র, গৃহহীন ও মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব জনগোষ্ঠীর ভোটারদের নাম বাদ পড়ায় নির্বাচনে রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রভাবিত হতে পারে।
তবে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও দেশটির নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটার এবং ভোটার হওয়ার যোগ্যতা হারানো ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করার পাশাপাশি নির্বিচারে সমাবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বায়োমেট্রিক পরিচয় শনাক্তকরণব্যবস্থাসহ ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ, আটকাদেশ এবং নিপীড়নের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ বিভিন্ন মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার জন্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাঁরা জাতিসংঘের কর্মকর্তা নন; স্বাধীনভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগেও ভারত সরকার দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। চলতি মাসের শুরুতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর উদ্বেগ জানালেও ভারত সরকার সেটিকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছিল।

 

এ জাতীয় আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আচরণে সংযম চায় সম্পাদক পরিষদ

ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে সরকার

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩৯

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯২৯ জন

মিরপুরে নাশকতার অভিযোগে আ.লীগ-ছাত্রলীগের ১১ জন আটক

চার দিন বন্ধ সামিটের এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাসের চাপ

অক্টোবরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশ

তাহসিফ হত্যা: তরুণী দিশার ৪ দিনের রিমান্ড

নবীনগরে যুব দিবস পালিত, ঋণ ও সনদ বিতরণ

ঢাকায় ৩২ বাসরুটের পরিকল্পনা, আজ চালু হচ্ছে ৬টি

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত