বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা

news-image

দেশে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং জ্বালানি সংকটের প্রভাবে টেলিযোগাযোগ খাত গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিচালনায় জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাচ্ছে, যা বড় ধরনের সেবা বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি Association of Mobile Telecom Operators of Bangladesh এক চিঠিতে Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission-কে পরিস্থিতির গুরুতর দিকগুলো তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়, বিষয়টি শুধু অপারেশনাল সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকিতে রূপ নিচ্ছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল অপারেটরদের বেস স্টেশন, ডাটা সেন্টার ও সুইচিং সিস্টেম সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে নেটওয়ার্ক চালু রাখতে।

বিশেষ করে বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস), ডাটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সচল রাখতে ডিজেল ও অকটেনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। গ্রিডের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশের প্রধান মোবাইল অপারেটর যেমন Grameenphone, Robi Axiata এবং Banglalink—এই তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই জ্বালানি ব্যবহারের চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি একটি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে পুরো টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে জেনারেটরনির্ভর হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ডাটা সেন্টারগুলো, যা ভয়েস ও ইন্টারনেট সেবার মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

খাত সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, যদি এই কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। ফলে এই খাতের যেকোনো বড় ধরনের সমস্যা সরাসরি জনজীবন ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতোমধ্যে অনেক ব্যবহারকারী সেবার মান কমে যাওয়ার অভিযোগ করছেন। কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং কিছু এলাকায় নেটওয়ার্ক না থাকা—এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে। সংকট অব্যাহত থাকলে শহরেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জেলা পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, মজুত কমে যাওয়া এবং পরিবহন সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ডাটা সেন্টারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ প্রদান এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ডিজিটাল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, রফতানিমুখী শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি