ফ্রান্সে সহিংসতা, অপরাধীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি ম্যাক্রনের

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ফ্রান্সে বিক্ষোভের আড়ালে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সহিংস বিক্ষোভকারীরা প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।
রোববার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো ব্যক্তিদের সঙ্গে ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের এক করে দেখা যাবে না। অপরাধে জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এর আগে শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক নগর সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া পুলিশের সদস্য ও জঁদার্ম বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হন।
ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিভিন্ন শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তারা নজিরবিহীন সহিংসতার মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ম্যাক্রন আরও বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় ঐক্য, শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা জরুরি। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সহায়তা দিতে একটি সংকট মোকাবিলা ইউনিট গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
প্যারিস থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ম্যাক্রনের বক্তব্যে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের ঘোষণা ছিল না। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ কতটা প্রশমিত করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরকারের এ ধরনের বক্তব্যে ইতোমধ্যে বিরক্ত বলে জানান তিনি।
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ
আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো হয়েছে। বিরোধী শিবিরের নেতারা এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বামপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞের দায় সরকারের ওপর চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থি নেতা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্দান বারদেলা ম্যাক্রনের ভাষণকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না এবং সংকট মোকাবিলায় কার্যকর সমাধানও দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে ফ্রান্সে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ পরিস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আচরণে সংযম চায় সম্পাদক পরিষদ

ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে সরকার

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩৯

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯২৯ জন

মিরপুরে নাশকতার অভিযোগে আ.লীগ-ছাত্রলীগের ১১ জন আটক

চার দিন বন্ধ সামিটের এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাসের চাপ

অক্টোবরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশ

তাহসিফ হত্যা: তরুণী দিশার ৪ দিনের রিমান্ড

নবীনগরে যুব দিবস পালিত, ঋণ ও সনদ বিতরণ

ঢাকায় ৩২ বাসরুটের পরিকল্পনা, আজ চালু হচ্ছে ৬টি

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত