পাত্রী না পেয়ে আত্মহত্যা, মহারাষ্ট্রে আলোচনায় ২৯ মৃত্যু

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২৯টি মৃত্যুর ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব আত্মহত্যার পেছনে শুধু বিয়ে না হওয়াই দায়ী ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণের মতো কারণও আত্মহত্যার ঘটনায় উঠে এসেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে বিয়ে এখন আর শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চাকরি, আয়, জমি, সামাজিক অবস্থান, জাতি, পারিবারিক দায়িত্ব এবং নারী-পুরুষের পরিবর্তিত প্রত্যাশা—সবকিছু মিলিয়ে বিয়ের বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে।

মহারাষ্ট্রের ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ওপর ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বয়সসীমায় অবিবাহিত নারীর হার প্রায় ১১ শতাংশ হলেও পুরুষের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে বিয়ের বাজারে পুরুষদের তুলনামূলক বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন অবিবাহিত থাকছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় পাত্রের জমিজমা ও পারিবারিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন নিয়মিত চাকরি, আয়, নিজস্ব বাড়ি এবং শহরে বসবাসের সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল না হওয়া পুরুষদের অনেকেই বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জলগাঁওয়ের কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনাও এ আলোচনায় এসেছে। বি ফার্ম শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও নিজের বাড়ি বা সরকারি চাকরি না থাকায় একাধিকবার বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আত্মহত্যা করেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিয়ে না হওয়ার ঘটনাকে আত্মহত্যার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দীর্ঘমেয়াদি হতাশা, সামাজিক চাপ, আর্থিক সংকট ও পারিবারিক সমস্যার মতো বিষয়ও একজন মানুষের মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

গবেষকদের মতে, গ্রামীণ সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের পছন্দও আগের তুলনায় বদলেছে। চাকরি, শিক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও জীবনযাপনের নিরাপত্তা এখন তাদের সিদ্ধান্তে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে জাতি ও সামাজিক অবস্থানের মতো পুরোনো কাঠামোগুলোও এখনো বিয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব রাখছে।

লিঙ্গ সমতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়ার প্রত্যাশাকে অতিরিক্ত চাহিদা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে পুরুষদের ওপর নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে বিয়ে করার সামাজিক চাপও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে জলগাঁওয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিয়ে, সামাজিক প্রত্যাশা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার জটিল সম্পর্ক সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টিকে শুধু ‘পাত্রী সংকট’ হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক কারণগুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি