জিয়ার সুশাসনের দর্শন

news-image
রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জনপ্রিয়তা অর্জন করলেই কেউ রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠেন না। একজন রাষ্ট্রনায়ককে বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হয়। ইতিহাসে বহু জনপ্রিয় নেতা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেলেও দূরদর্শিতা, নৈতিকতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা যাদের ছিল, তারাই রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

লেখকের মতে, প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক জনমতকে সম্মান করলেও প্রয়োজনে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন না। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকে।

বিশ্ব ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন ব্যাপক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও আজীবন ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাও দীর্ঘ সংগ্রামের পর রাষ্ট্রপতি হয়েও একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ বেছে নেননি। এসব সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

লেখক মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করেন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ক্ষমতায় থেকেও তিনি এককেন্দ্রিক শাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন বলে লেখক উল্লেখ করেন।

একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেখক বলেন, ১৯৮০ সালে ছাত্রনেতাদের এক বৈঠকে একজন নেতা জিয়াউর রহমানকে আজীবন রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে তিনি তাৎক্ষণিক আপত্তি জানিয়ে গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা স্পষ্ট করেন। লেখকের মতে, এ ঘটনা তার ক্ষমতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে।

সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যের ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের কিছু দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদের সমালোচনা বা বিরূপ আচরণের মুখোমুখি হলেও তিনি কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরং পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করেছিলেন, যা রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সততা ও জবাবদিহিতার বিষয়েও লেখক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন। বিদেশ সফরে প্রাপ্ত মূল্যবান উপহারকে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। একইভাবে সরকারি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে নিজের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে তিনি দ্বিধা করেননি বলে লেখক দাবি করেন।

লেখকের মতে, ন্যায়বোধ, সততা এবং সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকারই জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল। তার এই মূল্যবোধ সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব প্রদানে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল। এ কারণেই তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি