ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব শেষ, তবুও দখলে তিন সিটের কক্ষ

news-image

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি ডা. আল মামুনের বিরুদ্ধে তিন সিটের একটি কক্ষ দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও প্রভাব খাটিয়ে তিন সিটের একটি কক্ষ দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি ডা. আল মামুনের বিরুদ্ধে।

আজ শনিবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ডা. আল মামুন বলেন, ‘আমি রুম জবরদখল করি নাই। আমার বৈধ এলোটমেন্ট আছে।’

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও ছাত্রদল নেতা কীভাবে একাই তিন সিটের কক্ষ দখল করে রেখেছেন—এমন প্রশ্নে হল সুপার ডা. জহরুল হক ও অধ্যক্ষ ডা. শরিফুল ইসলাম ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে দায়সারা বক্তব্য দেন।

জানা যায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি ডা. আল মামুন ৪৭তম ব্যাচের ছাত্র। গত ২১ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ ইন্টার্ন চিকিৎসককে পিন্নু হোস্টেল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ করা ডা. মিলন হোস্টেলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে বরাদ্দ করা কক্ষে ওঠার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ইন্টার্ন হোস্টেলের ৩০ নম্বর কক্ষে ছাত্রদল সভাপতি ডা. আল মামুন ও ডা. নাদিম মাহমুদ নিঝুমের জন্য সিট বরাদ্দ করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশনাকে না মেনে পিন্নু হোস্টেলের তিন সিটের ৪৭ নম্বর কক্ষের পুরোটাই প্রায় এক বছর থেকে দখল করে রেখেছেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ডা. আল মামুন।

সম্প্রতি রংপুর মেডিকেল কলেজের ৫৪তম ব্যাচের অরিয়েন্টেশন এবং ক্লাস শুরু উপলক্ষে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করায় সিটের সংকট দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে কলেজ প্রশাসন জিয়া হোস্টেলের মোটরসাইকেল রাখার গ্যারেজ রুমকে গণরুম করে সেখানে সিটের ব্যবস্থা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন ছাত্র বলেন, কিছু ছাত্রের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরেও সিট দখল করে রেখেছে প্রশাসনের ছত্রছায়ায়। অথচ নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য যে রুমে সিট বরাদ্দ দিয়েছে কলেজ প্রশাসন, সেখানে মানুষ থাকার উপযুক্ত নয়। সেখানে প্রতি ২৫ থেকে ৩০ জনের জন্য একটা করে ওয়াশরুম। প্রথম সারির মেডিকেল কলেজের এরকম দুরবস্থা অনেক হতাশাজনক।

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি ডা. আল মামুন বলেন, ‘ইন্টার্ন হোস্টেলে যাওয়ার নোটিশ দিলে হোস্টেলে সিট ফাঁকা থাকায় আমি কলেজ অথরিটিকে জানাই, আমার পড়াশোনার জন্য পিন্নু হোস্টেলেই পুরো রুমটা বরাদ্দ প্রয়োজন। পরবর্তীতে কলেজ অথরিটি আমাকে এলোটমেন্ট দেয়। এ বিষয়ে আপনি কলেজ অথরিটিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার ইন্টার্ন শেষ হয়েছে গত বছরের আগস্ট মাসে। পরবর্তীতে চার মাসের জন্য এক্সটেনশন করে নেই। কিছু দিন আগে আমার ইন্টার্ন শেষ হয়েছে। আমার পরের ৪৮ ব্যাচের ইন্টার্নরাও এখনো এই হোস্টেলে আছে। কলেজ প্রশাসন নোটিশ দিলে আমি চলে যাব।’

রংপুর মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পিন্নু হোস্টেল সুপার ডা. জহরুল হক বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পিন্নু হোস্টেলে থাকার সুযোগ নেই।’

শিক্ষাজীবন শেষের পরও কীভাবে একাই তিন সিটের কক্ষ দখল করে ছাত্রদল নেতা আছেন—প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে হোস্টেল সুপার বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সব বিষয় তো আমার নজরে থাকে না। এগুলো হল সুপারের বিষয়। আমি ঢাকা আছি। এ বিষয়ে আপনি হল সুপার ডা. জহরুল হকের সঙ্গে কথা বলুন।’ এ কথা বলেই মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি