গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পর ওয়াশিংটন জানিয়েছে, গাজার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ, বহিষ্কার কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে অন্যত্র স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনাকে তারা সমর্থন করে না।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অবস্থানেই যুক্তরাষ্ট্র অটল রয়েছে। ওই পরিকল্পনায় গাজার কাউকে জোর করে নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য না করার কথা বলা হয়েছে। কেউ স্বেচ্ছায় চলে গেলে পরবর্তীতে ফিরে আসার সুযোগ রাখার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করে বলেছে, গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত, বহিষ্কার বা বাধ্যতামূলকভাবে অন্যত্র পাঠানোর কোনো প্রস্তাবের প্রতি তাদের সমর্থন নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য এসেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। তিনি গাজার সংকটের সমাধান হিসেবে ফিলিস্তিনিদের অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পথ ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে ইসরায়েলের।

এর পরদিন একই ধরনের মন্তব্য করেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাদের ‘ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়ার’ কথা বলেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের আশঙ্কা, এমন পরিকল্পনা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি কিংবা আরও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে আরব দেশগুলোও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি আরব মিত্রও এ ধরনের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও পুনর্গঠন নিয়ে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও অগ্রগতি থমকে আছে। হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। ইসরায়েলের অবস্থান হলো, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা বড় কোনো ছাড় দেবে না।

যুদ্ধবিরতি ও সংকট সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার হামাসের প্রতিনিধি ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজার পুনর্গঠন শুরু না করার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য আপত্তি দুই মিত্রের মধ্যে বিরল নীতিগত মতপার্থক্য সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের বক্তব্য চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি