গাজায় নিহত ৮০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষক

news-image

অনলাইন ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি শিক্ষক। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গাজা ও পশ্চিম তীরের শিক্ষকরা বর্তমানে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে ফিলিস্তিনের শিক্ষা খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৭০ জনের বেশি শিক্ষক এখনও আটক রয়েছেন। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় চেকপয়েন্ট, চলাচলে বাধা ও হয়রানির কারণে শিক্ষকদের স্বাভাবিক কর্মজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মাসাফের ইয়াত্তা, আল-মুঘাইয়ির, জর্ডান উপত্যকা এবং ‘এরিয়া সি’ এলাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে জানানো হয়েছে।

অসলো-২ চুক্তির আওতায় পশ্চিম তীরকে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’—এই তিন প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ‘এরিয়া সি’ পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত এবং এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন।

শিক্ষকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলের হাতে ফিলিস্তিনি কর রাজস্বের অর্থ আটকে থাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে।

‘ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ’ নামে পরিচিত এসব অর্থ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হয়ে আমদানি করা পণ্যের ওপর ইসরায়েল কর্তৃক সংগৃহীত কর থেকে আসে। ১৯৯৪ সালের প্যারিস প্রটোকল অনুযায়ী ইসরায়েল এসব রাজস্ব সংগ্রহ করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

তবে ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই রাজস্ব থেকে অর্থ কেটে নেওয়া এবং অর্থ হস্তান্তর বন্ধ রাখার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক সংকট আরও গভীর হয়েছে এবং সরকারি কর্মীদের পূর্ণ বেতন দেওয়া ও বিভিন্ন সেবা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সরকারি রাজস্বের বড় একটি অংশ এই ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউয়ের ওপর নির্ভরশীল। অর্থ আটকে থাকায় শিক্ষকসহ সরকারি কর্মীদের বেতন এবং বিভিন্ন জনসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং শিক্ষা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, আটক শিক্ষকদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে আটকে থাকা আর্থিক পাওনা পরিশোধ এবং আটক শিক্ষকদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ জাতীয় আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আচরণে সংযম চায় সম্পাদক পরিষদ

ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে সরকার

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩৯

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯২৯ জন

মিরপুরে নাশকতার অভিযোগে আ.লীগ-ছাত্রলীগের ১১ জন আটক

চার দিন বন্ধ সামিটের এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাসের চাপ

অক্টোবরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশ

তাহসিফ হত্যা: তরুণী দিশার ৪ দিনের রিমান্ড

নবীনগরে যুব দিবস পালিত, ঋণ ও সনদ বিতরণ

ঢাকায় ৩২ বাসরুটের পরিকল্পনা, আজ চালু হচ্ছে ৬টি

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত