মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত, স্বস্তিতে পথচারীরা
অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের ফুটপাত দখলের চিত্র বদলে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় তৈরি হয়েছে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। মিরপুর-১ থেকে মিরপুর-১০ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত এখন অনেকটাই হকারমুক্ত। ফলে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন পথচারীরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অবৈধ দখলমুক্ত করার এই কার্যক্রমে নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-১, পাইকপাড়া, শাহআলী মার্কেট, মুক্তবাংলা মার্কেট, সনি সিনেমা হলের মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের ওপর আগের মতো হকারদের দোকানপাট নেই। সড়কের পাশ দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটছেন সাধারণ মানুষ। অনেক জায়গায় পাশাপাশি কয়েকজনের হাঁটার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও কয়েকবার ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উচ্ছেদের কয়েক দিনের মধ্যেই আবার দখল হয়ে যেত। এবার কয়েক সপ্তাহ ধরে ফুটপাত তুলনামূলকভাবে দখলমুক্ত থাকায় তাঁরা স্বস্তি পাচ্ছেন।
মিরপুর পাইকপাড়ার বাসিন্দা হারুন-অর-রশিদ বলেন, আগে ফুটপাত পুরোপুরি দখলে থাকায় হাঁটার জায়গা পাওয়া যেত না। এখন পাশাপাশি তিন-চারজন অনায়াসে চলাচল করতে পারছেন। এই পরিবেশ বজায় থাকলে সকালে ও বিকেলে হাঁটার জন্য আলাদা জায়গার প্রয়োজনও অনেকটা কমবে।
তবে শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদে ফুটপাতের পরিবেশ ঠিক রাখতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নগরবাসী। তাঁদের মতে, ফুটপাতের পাশে গাছ লাগানো, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বসার জায়গা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন।
শুক্রবার বিকেলে মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনের ফুটপাত, ফলপট্টি, শাহ আলী প্লাজা, আনোয়ার ম্যানশন, কাজীপাড়া, পর্বতা ও শেওড়াপাড়ার বিভিন্ন অংশ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করেছেন পথচারীরা।
তবে পুরো এলাকা এখনো শতভাগ দখলমুক্ত হয়নি। কোথাও কোথাও দোকানের পণ্য ফুটপাতের ওপর রাখা হয়েছে। মিরপুর থানা শিক্ষা অফিসের সামনের একটি অংশে ভাসমান নার্সারির দখলও দেখা গেছে। কয়েকটি মার্কেটের সামনে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখার ঘটনাও রয়েছে।
মিরপুর-১৩ এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, এখন ফুটপাত দিয়ে নিশ্চিন্তে হাঁটা যাচ্ছে। এই ব্যবস্থা স্থায়ী হলে মানুষ স্বল্প দূরত্বের পথ হেঁটেই যেতে উৎসাহিত হবে। এতে একদিকে যানজট কমবে, অন্যদিকে মানুষের শারীরিক ব্যায়ামও হবে এবং যাতায়াত খরচ সাশ্রয় হবে।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা নির্দিষ্ট ব্যবসার জায়গা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলের পেছনে থাকা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নগরবাসীর মতে, ফুটপাতের দখল ঠেকাতে মার্কেট মালিক সমিতিগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দোকানের মালামাল ফুটপাতে রাখা এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি।
মিরপুরের এই উদ্যোগ ঢাকার অন্যান্য এলাকাতেও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, মতিঝিল, গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে।
নগর পরিকল্পনাসংশ্লিষ্টদের মতে, ফুটপাত শুধু চলাচলের জায়গা নয়, এটি একটি শহরের নাগরিক জীবন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই উচ্ছেদের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, হকারদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে মিরপুরের এই উদ্যোগ অন্য এলাকাগুলোর জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।











