জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করবে সরকার
অনলাইন ডেস্ক : কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থায় চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা হবে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে একাধিক আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে।
মাহ্দী আমিন জানান, শুরুতে বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম চালু করে ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি জেলায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই চাকরিপ্রার্থী ও স্থানীয় নিয়োগদাতাদের যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে বেসরকারি খাতকেও সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের সুফল থেকে সমাজের কোনো শ্রেণির মানুষ যাতে বাদ না পড়েন, সেটিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় যুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে শিগগিরই এক লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা খাতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, অভিন্ন পোশাক এবং ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং পরিবারগুলোর নারীদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে সরকার কাজ করছে।
সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।











