,

চীনে টানা চারদিন করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : টানা চতুর্থ দিনের মতো দৈনিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে চীনে। ২৬ নভেম্বর, শনিবার দেশটিতে ৩৯ হাজার ৭৯১ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এরমধ্যে উপসর্গ রয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জনের। উপসর্গ নেই ৩৬ হাজার ৮২ জনের। এদিন মারা গেছেন মাত্র একজন। এতে করে চীনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২২৩ জনে।

এর আগের শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ৩৫ হাজার ১৮৩ জন করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছিল চীনে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩২ হাজার ৬৯৫ জন।

বুধবার থেকে শনিবার এই চার দিনের প্রতিদিনই গত প্রায় তিন বছরের পুরো করোনা মহামারিতে একদিনে সর্বোচ্চ দৈনিক করোনা ভাইরাসের রেকর্ড সংক্রমণ হয়েছে চীনে।

চীনের রাজধানী বেইজিংসহ অন্যান্য শহরগুলোতে করোনা সংক্রমণ আটকাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। চংকিং এবং গুয়ানজুতে নতুন সংক্রমণ দিনে দিনে বেড়েই চলছে। বেইজিংয়েও এটি বেড়ে চলছে। রাজধানী শহরে একদিনের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৬৬ ভাগ। শনিবার বেইজিংয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। অন্যদিকে রবিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০৭ জন।

দক্ষিণাঞ্চলের শহর চংকিংয়ে বসবাস করেন ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ। এ শহরটিতেও শনিবারের তুলনায় রবিবার আক্রান্তের হার বেড়েছে ১৫ ভাগ।

তবে গুয়ানজুতে অল্প কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা। ১ কোটি ৯ লাখ মানুষের শহরটিতে শনিবার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৪১৯ জন। সেখানে রবিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪১২ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটিও ঘটেছিল চীনে।

তারপর খুবই দ্রুতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরপর ওই বছরের ১১ মার্চ করোনাকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।

মহামারির শুরু দিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, ব্যাপক পরীক্ষা, ভ্রমণ বিধিনিষেধ, করোনা টিকা ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করাসহ কঠোর সব করোনা বিধি চালু করে। এমনকি চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বের প্রায় সব দেশ কঠোর করোনা বিধি থেকে সরে এলেও চীন এখনও সেসব জারি রেখেছে।

এদিকে সরকারের ‘জিরো কোভিড’ নীতির জেরে গত প্রায় তিন বছর যাবৎ চীনের জনগণ একদিকে যেমন স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দিনের পর দিন লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের ফলে কর্মসংস্থান হারিয়ে বহু মানুষ চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। এর ফলে সম্প্রতি কঠোর কোভিড বিধি-নিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই ফের এমন ব্যাপকহারে করোনার সংক্রমণের ফলে দেশটির মানুষের জীবন ফের দুঃসহ হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, লকডাউন সহ কঠোর কোভিড বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে দেশটিতে। বিক্ষোভগুলোতে এখন সরকারের কড়া সমালোচনার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পদত্যাগের দাবিও শোনা যাচ্ছে। যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

সম্প্রতি উরুমশির একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির পর চীনে কোভিড বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরদার হচ্ছে বলে ধারণা মিলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি সাংবাদিকদের পোস্ট করা ভিডিওতে সাংহাইয়ে কয়েক হাজার মানুষকে রাস্তায় নেমে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণ এবং কোভিড বিধিনিষিধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

ভিডিওতে শত শত বিক্ষোভকারীর মুখে প্রেসিডেন্ট শি জিএনপিংয়ের পদত্যাগের দাবিও শোনা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

চীনের অনেকেই অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের জন্য আবাসিক ভবনে লকডাউন দেওয়াকে দায়ী করছেন।

কর্তৃপক্ষ এই দায় অস্বীকার করলেও শুক্রবার রাতে উরুমশির স্থানীয় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করে দেওয়া বিবৃতিতে কেউ দায়িত্বে গাফিলতি করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

চীনে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ‘শূন্য কোভিড’ নীতির বিরুদ্ধে অনেক কর্মসূচি হয়েছে, সেসব কর্মসূচিতে প্রেসিডেন্ট শি ও সরকারের বিরুদ্ধে মানুষজন তাদের ক্ষোভও প্রকাশ করেছে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চীনের এই ‘শুন্য কোভিড’ নীতিই সবচেয়ে কঠোর। টিকাদান তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং বয়স্ক লোকদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টাও তাদের এই নীতি নেওয়ার অন্যতম কারণ।

এতো এতো কঠোর বিধিনিষেধের পরও চলতি সপ্তাহে এসে চীনে মহামারী শুরুর পর সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বে যখন মহামারী শেষ হয়ে গেছে তখন ফের দেশটিতে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড