,

পার্লামেন্টই গণতন্ত্রের বেঁচে থাকার উপকরণ

news-image

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি : সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দুই কক্ষে ভাষণ দিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। এই ভাষণে তিনি প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নিঃস্বার্থ সেবা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওয়েস্টমিনস্টার হলে সমবেত প্রায় নয়শ আইনপ্রণেতার সামনে দেওয়া ভাষণে রাজা বলেন, পার্লামেন্টই হচ্ছে ‘আমাদের গণতন্ত্রের বেঁচে থাকা আর টিকে থাকার উপকরণ’।

ভাষণের পরই রাজার প্রতি সমবেদনা জানান হাউস অব কমন্স এবং লর্ডসের স্পিকাররা। হাউস অব কমন্সের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল এমপিদের পক্ষ থেকে বলেন, ‘আমাদের শোক যতই হোক, আমরা জানি আপনার শোক তার চেয়েও বেশি।’ রাজার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আপনি আমাদের অনন্য ইতিহাস, আমাদের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, মূল্যবান ঐতিহ্য, স্বাধীনতা এবং কর্তব্যকে ধারণ করেন।’

জবাবে রাজা বলেন, ‘খুব শৈশব থেকে প্রয়াত রানি নিজের দেশ, জনগণ এবং সাংবিধানিক সরকারের মূল্যবান নীতি বজায় রাখার শপথ নিয়েছিলেন। এই শপথ তিনি অদম্য আত্মত্যাগের মাধ্যমে রক্ষা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, নিঃস্বার্থ কর্তব্য পালনের উদাহরণ তৈরি করে গেছেন তিনি, আর ঈশ^রের সহায়তায় এবং আপনাদের পরামর্শে আমি বিশ^স্ততার সঙ্গে তা অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

লেখক শেক্সপিয়ারের রানি প্রথম এলিজাবেথকে নিয়ে লেখা ঐতিহাসিক লাইনের উদ্ধৃতি দেন তিনি।

প্রথম এলিজাবেথকে নিয়ে শেক্সপিয়ার লিখেছিলেন, তিনি ছিলেন সকল জীবিত রানিদের জন্য অনুকরণীয়। রাজা তৃতীয় চার্লস সদ্য প্রয়াত মাকে শেক্সপিয়ারের সেই উদ্ধৃতি দিয়ে মূল্যায়ন করেন। দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে দুঃখ লাঘব করার ক্ষমতা আমার নেই তবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি আমার ওপর অর্পিত ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের গুরুত্ব অনুভব করছি।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজার স্ত্রী, কুইন কনসোর্ট ক্যামিলা।

রাজা তৃতীয় চার্লস ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থিত হওয়ার আগেই সেখানে সংসদ সদস্য, লর্ডস, ব্যারোনেস সবাই উপস্থিত হন। এ সময় সবাই লাইন ধরে নতুন জাতীয় সংগীত ‘গড সেভস দ্য কিং’ পরিবেশন করেন। রানির মৃত্যুর পর নতুন সংগীতের সময় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্কটল্যান্ডে মায়ের মরদেহের কাছে চলে যান রাজা চার্লস। সেখানে তিনি অংশ নেন মরদেহবাহী মিছিলে। রানির মরদেহ লন্ডনে পৌঁছবে আজ মঙ্গলবার। শেষবারের মতো তাকে বাকিংহাম প্রাসাদে নেওয়া হবে। জীবনের ৯৬টি বছর কাটানো এই প্রাসাদ থেকে বুধবার বের হবে তার মরদেহ।

১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর রানির মরদেহ থাকবে ওয়েস্টমিনস্টার হলে। সেখানে পরবর্তী চারদিন সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন। ১৯ সেপ্টেম্বর মরদেহ নেওয়া হবে উইন্ডসর চ্যাপেলে, সেখানেই প্রয়াত স্বামী প্রিন্স ফিলিপের পাশে রয়েল ভল্টে তাকে শায়িত করা হবে। সেদিন জড়ো হবেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশ্বনেতারা।

এদিকে দাদি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে নিজের ‘গাইডিং কম্পাস বা পথপ্রদর্শক’ বলে অভিহিত করেছেন প্রিন্স হ্যারি। সোমবার রানির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রিন্স হ্যারি রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে ২০২০ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি বলেন, দাদির প্রতি তিনি ‘চিরকৃতজ্ঞ’। তার অভাব অনেক বেশি অনুভব করবেন বলেও জানান হ্যারি।

এ জাতীয় আরও খবর

দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে ‘চিরকুট’

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই আর নেই

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন অনুকরণীয় ব্যক্তির সাক্ষাৎ

আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

উত্তরায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন, কারণ শর্ট সার্কিটের সন্দেহ

হরমুজ প্রণালিতে হামলায় ডুবল সিঙ্গাপুরের জাহাজ

ইউক্রেনে স্টারলিংক সীমিত, ড্রোন প্রতিরোধে সংকট

মেসির অ্যাসিস্টে জয়, প্লে-অফে ইন্টার মায়ামি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিকায়নের তাগিদ রাষ্ট্রপতির