,

যুদ্ধের অবসান হলো আলেপ্পোর

aleppo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি আলেপ্পোতে সশস্ত্র যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে দেশটির সরকার-সমর্থিত বাহিনী।

বিদ্রোহীদের ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহীরা এ বিষয়ক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন এ তথ্য জানান।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, ভিতালি চুরকিন জাতিসংঘের জরুরি সেশনে বলেছেন, ‘সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পূর্ব-আলেপ্পোতে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটেছে। ’ এর আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আলেপ্পো ত্যাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কার্যকরী হতে পারে।

বিদ্রোহীদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদেরও আলেপ্পো ত্যাগ করার সুযোগ থাকবে বলে জানান চুরকিন। তিনি বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকরা সেখানে অবস্থান করতে পারেন, সেখান থেকে নিরাপদ কোনও স্থানেও চলে যেতে পারেন। বিদ্যমান মানবিক আয়োজনের সুযোগ তারা নিতে পারেন। ’

বিবিসির খবরে বলা হয়, দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়ার আলেপ্পোতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত চলে আসছে। সিরিয়ার বেশিরভাগ জায়গা থেকেই নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল বিদ্রোহীরা। সর্বশেষ আলেপ্পোতেই নিজেদের সুসংগঠিত রেখেছিল তারা। এখানে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নিতে সিরিয়া সরকারকে সশস্ত্র সহযোগিতা দিয়েছিল রাশিয়াও। এখন উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি হওয়ায় এই অঞ্চলটিতে সশস্ত্র যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

আলেপ্পো থেকে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় ওই এলাকায় বোমা হামলা বা লড়াই হয়নি। তবে এই চুক্তির খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে সিরিয়ার সরকার সমর্থিত বাহিনীর হাতে বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বাহিনীর হাতে বেসামরিক নাগরিক হত্যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের নৃশংসতার জন্য সিরিয়া সরকারের পাশাপাশি দায়ী করেছে সিরিয়ার মিত্রশক্তি রাশিয়া ও ইরানকে। তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিবিসির প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি জোনাথন মারকাস লিখেছেন, পূর্ব-আলেপ্পো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে এখন দেশটির বেশিরভাগ অংশই এখন কার্যত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আলেপ্পো দেশটির সবচেয়ে জনবহুল শহর। গৃহযুদ্ধ শুরুর আগে শহরটি ছিল দেশটির অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। এই শহরটির দখল নেওয়া কেবল বাশার আল-আসাদের জন্যই বিজয় নয়, এটি আল-আসাদের সমর্থক ইরান ও রাশিয়ার জন্যও বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

মারকাস লিখেছেন, কৌশলগত দিক থেকে মস্কোর জন্য আলেপ্পো বড় কিছু নয়। তবে সেখানে বিদ্রোহীদের পতন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের জন্য বড় একটি অর্জন। রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আসাদ খুব শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন না। তার সামরিক শক্তিও হ্রাস পাচ্ছিল। কিন্তু বহিঃশক্তির অন্তর্ভুক্তি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে সিরিয়া সরকারকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছে। সিরিয়ার ভবিষ্যতের ওপর তার সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে