,

শৈশবেই নিজের টিচারকে ঘুষি মেরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

trumpamarআন্তর্জাতিক ডেস্ক : দাম্ভিক, আত্মপ্রেমী, অহঙ্কারী নাকি স্রেফ একজন ব্যবসায়ী? ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহের কমতি নেই। কেমন প্রেসিডেন্ট হবেন ট্রাম্প, তা জানার চেষ্টা চালিয়েছেন মনোবিদ, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড্যান পি ম্যাকঅ্যাডামস। তার ‘দ্য মাইন্ড অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ অবলম্বনে ধারাবাহিক আয়োজন
বিভিন্ন গবেষকের মতে, রিচার্ড নিক্সন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি উগ্র প্রেসিডেন্ট। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট গেইল কলিন্সকে তারই লেখা কলামের ছবি যিনি পাঠিয়েছিলেন, সে ব্যক্তির তুলনায় নিক্সনকে ‘নম্র’ না বলে উপায় থাকে না। পত্রিকার পৃষ্ঠা কেটে কলামের উপরে ছাপানো গেইল কলিন্সের ছবির চারপাশে বৃত্ত এঁকে তাতে ‘ফেস অব আ ডগ’ লিখেছিলেন ট্রাম্প। এর পর ওই পৃষ্ঠাটি তিনি গেইল কলিন্সের ঠিকানায় পোস্ট করেন।

সংগীতশিল্পী চের একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে ‘নোংরা কথা’ বলেছিলেন। বিষয়টি তার ভালো লাগেনি। ঘটনাটি উল্লেখ করে ‘নেভার এনাফ’ বইয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘টুইটারে আমি তার গুষ্টি উদ্ধার করি। এর পর সে কখনো আমার ব্যাপারে কথা বলেনি।’নিজের জনসভায় বিক্ষোভকারীদের দেখিয়ে ট্রাম্প সমর্থকদের বলেছেন, ‘ওদের এখান থেকে সরিয়ে দাও। মুখে ঘুষি মারার ইচ্ছে হচ্ছে আমার।’ সাংবাদিক অথবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, যারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লেখেন অথবা বলেন, তারা ‘বিরক্তিকর’। রিয়েলিটি টিভিতে দর্শক যে ট্রাম্পকে দেখেছেন, তার এমন আচরণ স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনৈতিক পদের প্রার্থীরা কদাচিত এ ধরনের আচরণ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক উচ্চাভিলাষ ও আগ্রাসী মনোভাবের প্রকাশ শৈশবেই দেখা গিয়েছিল। ট্রাম্প নিজেই সেকেন্ড গ্রেডে থাকার সময় মিউজিক টিচারকে ঘুষি মারার কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বারবারা রেস বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকৃতির কেন্দ্রে রয়েছে তার রাগ। যখন তিনি রাগ প্রকাশ করেন, বুঝতে হবে ওই অনুভূতি নিখাদ।

তিনি যে রাগে উন্মাদ হন, সেটাই তার ব্যক্তিত্ব।’ এ রাগ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভীষণ বহির্গামিতা ও অত্যল্প উদারতা অথবা একগুঁয়েমির পথে চালিত করে। রাগ মালিন্য জন্ম দেয়। আবার রাগই মানুষকে সামাজিক প্রতিপত্তির পথে চালিত করে। রাগ থেকেও মানুষ অন্যের সমাদর পেতে তাড়িত হয়। যথেষ্ট রসবোধের (কখনো কখনো যা আক্রমণাত্মক) মিশেলে রাগটাই ট্রাম্পের আসল শক্তি। এ রাগই তার রাজনৈতিক বক্তব্যের নিয়ামক।

হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর ট্রাম্প কেমন প্রেসিডেন্ট হবেন, তা বলা সহজ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বহির্গামী মানুষেরা বড় ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। একগুঁয়ে ব্যক্তি কোনো কিছুর গভীরে কমই ভেবে দেখেন। যথেষ্ট বহির্গামী ও একগুঁয়ে মানুষ জর্জ ডব্লিউ বুশ ক্ষমতারোহণের পর বড় অর্জন হবে, এমন সিদ্ধান্তের পথে তাড়িত হন। ইরাক দখলের মতো সিদ্ধান্তই তার কাছ থেকে আসতে পারত। তা-ই এসেছে। জীবনভর জর্জ ডব্লিউ বুশ তার পিতা এইচ ডব্লিউ বুশের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ৯/১১-এর পর তিনি সে ইচ্ছা পূরণের একটি মনস্তাত্ত্বিক আশ্বাস পান। ওই ঘটনাকে বুশ শত্রু সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে নিজের পিতাকে বাঁচানোর বাড়তি তাড়না হিসেবে নেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো বড় সিদ্ধান্তের পেছনে তাড়িত হতে পারেন। সাদ্দামকে ক্ষমতাচ্যুত করে বুশ ইরাক ও পৃথিবীকে ‘মুক্ত’ করার স্বপ্ন দেখেছেন। সীমান্তজুড়ে দেয়াল নির্মাণ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পও আমেরিকাকে আবার মহীয়ান করার (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন স্লোগান) অঙ্গীকার করেছেন। একটি কারণে এক্ষেত্রে ব্যত্যয় হতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের রেটিংয়ে জর্জ ডব্লিউ বুশ উদারতা সূচকের তলানিতে অবস্থান করছেন। ট্রাম্প সেখানে বুশের চেয়ে বেশি রেটিং পেয়েছেন। এ কারণে ধারণা করা যায়, বহির্গামী প্রেসিডেন্ট হিসেবে জর্জ ডব্লিউ বুশের চেয়ে ক্লিনটনের সঙ্গেই ট্রাম্পের সাদৃশ্য বেশি হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দেখেছেন, কিছু ইস্যুতে ট্রাম্প উদার, কিছু ইস্যুতে গোঁড়া। আবার কিছু বিষয়ে তার অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। কাজেই তিনি হয়তো সহজে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান পাল্টাতে সক্ষম হবেন। এ সুবাদে কংগ্রেস ও বিদেশী নেতাদের সঙ্গে তার সমঝোতার পথও সহজ হবে। সর্বোপরি এটা বলা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হবেন না— এমন সিদ্ধান্ত, যেগুলো তার মনে সন্তোষ জোগাবে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে