গুমকে মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ বললেন বিচারপতি মঈনুল
অনলাইন ডেস্ক : গুমের শিকার হওয়াকে মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।
শনিবার ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর পর স্বজনরা অন্তত প্রিয়জনকে হারানোর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন এবং শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ পান। কিন্তু গুমের ঘটনায় পরিবারের কাছে নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি অজানা থেকে যায়।
তার মতে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান। একই সঙ্গে তাদের সামাজিক চাপ, আর্থিক সংকট ও বিচ্ছিন্নতার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আশা ও হতাশার মধ্যকার এমন পরিস্থিতি পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক এই বিচারপতি দাবি করেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে গুমের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গুম ব্যবহৃত হয়েছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার বৈধতা দেওয়ার জন্য অনেক সময় ভুক্তভোগীদেরই অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের ওপর উচ্চপর্যায় থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হতো, যার ফলে মানবিক বিবেচনাবোধ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।











