গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আগস্ট ২৯, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি নিয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য করা গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিসহ দুই দেশের পানি ও নদীসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় জেআরসির আলোচনার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে চলমান আছে।
এদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের মানুষের পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেই নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।
সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, অভিন্ন নদীগুলো থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তির খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখন ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী এর মেয়াদ ৩০ বছর। আগামী ডিসেম্বরেই চুক্তিটির বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন চুক্তিতে যাওয়ার আগে বিদ্যমান চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সময়োপযোগী সংস্কার প্রয়োজন। পানি বণ্টনের বিষয়টি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থনীতি, পরিবেশ, নগরায়ণ ও সামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক পানির চাহিদা নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলো দুই দেশের যৌথ ঐতিহ্য ও স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা জরুরি।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খানও গঙ্গা চুক্তি নবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, প্রায় তিন দশক আগের বাস্তবতার ভিত্তিতে করা চুক্তিটি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা প্রয়োজন।