,

হরমুজ খুলতে ইরানের শর্ত

news-image

অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান। এরই মধ্যে শর্তগুলো চূড়ান্ত করে একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে তেহরানে।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি। শুক্রবার রয়টার্স ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বৃহস্পতিবার আল মানার টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালি খুলতে ইরানের দাবিগুলো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট নৌ-করিডোর নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত করিডোরের একাংশ ওমানের এবং অন্য অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে নির্ধারিত চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

তবে করিডোর নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এর আগে দুই দেশের মধ্যে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলার কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস অবশ্য এর আগে ওমানের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতার দাবি করেছিল।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার না হলে হরমুজে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে তেহরানের।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি তেহরান সফর করেন। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, হরমুজ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৭টি এবং ১০ দিনের গড় ছিল ১৫টি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। সংঘাতের পর থেকে সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরাসরি আলোচনা এখনো অনিশ্চিত। ফলে ইরানের শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানই হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণাঙ্গ নৌ-চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

এ জাতীয় আরও খবর

জাতিসংঘে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় সন্তানের মা-বাবা হলেন দীপিকা-রণবীর

জানুয়ারিতে হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি মাছউদ

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব-বোরকা

জাফর ইকবাল, মাকসুদ কামাল, সাদ্দাম-ইনানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রতিদিন সকালে একই খাবার খাওয়া কি ক্ষতিকর?

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৯৩

অপ্রতিম হত্যায় তিন আসামির দায় স্বীকার

কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের কোচে আগুন

এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল