শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও, বাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ
দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কোতয়ালি থানা ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ ছাড়া তারা বাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ও বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে। এর ফলেশহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে একটি পুরানো মামলায় শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাত থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। একদিকে তীব্র যানজট, অন্যদিকে অসহনীয় গরমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
পরে আজ সকাল থেকে দিনাজপুর শহরের সরকারি কলেজ মোড়, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, বালুয়াডাঙ্গা টেম্পু স্ট্যান্ডসহ শহরের সবকটি প্রবেশপথ যানবাহন দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এ ছাড়া বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কোতয়ালি থানা ঘেরাও করে রেখেছে ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় বড় বাস, ট্রাক ও নাইট কোচ রেখে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পুরো শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ রোগী, যাত্রী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ।
থানা ঘেরাও করার পর বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০/১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিকদের মধ্যে হামলা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর কোতয়ালি থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয় ও শ্রমিকদের থানা কম্পাউন্ডের বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও থানা এলাকাসহ পুরো শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার সমর্থক আব্দুস সালাম জামশেদ, আব্দুল খালেক, শহিদুল ইসলাম ও মো. জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ জানান, শ্রমিক নেতা বাদশা সব সময় শ্রমিকদের পাশে থাকেন। তিনি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন। তাকে এত দিন গ্রেপ্তার করা হয়নি। মনোনয়ন সংগ্রহের দিন হঠাৎ করে তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো, সে প্রশ্ন তোলেন তারা।
এ শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘আমরা থানায় আসলে প্লাবন ও হিরুর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত লোক আমাদের শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমরা অবিলম্বে শেখ বাদশার মুক্তি চাই। তাকে ছেড়ে দিলে আমরা অবরোধ তুলে নেব।’
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কোতোয়ালি থানার সামনে আবারও দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুটি বাসে এবং একজন সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া থানার সামনে থাকা বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করা হয়।
দিনাজপুর জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের সহকারী নির্বাচন কমিশনার ও দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, আজ বৃহস্পতিবার জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র বিক্রির দিন ধার্য ছিল, তবে শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছে। এ কারণে মনোনয়নপত্র বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে আদালতে নেয় পুলিশ।
এদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে দূরপাল্লাসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আটকা পড়েছে ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকসহ অন্যান্যদের।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগের তিনটি মামলায় শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর কিছু শ্রমিক বিক্ষু্দ্ধ হয়ে বিক্ষোভ করছেন। আমরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে সবাইকে নিয়ে বসে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি হবে।’











