গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার
অনলাইন ডেস্ক : গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানাগুলোর ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার জানায়, দীর্ঘদিনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ও রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ পর্যন্ত উঠে আসছে না। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ নিয়মিত ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চেম্বারের মতে, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পরও উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের চাপ অব্যাহত থাকলে শিল্প খাত আরও সংকটে পড়বে। তাই ক্ষতি সামাল দিতে গার্মেন্টস ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ আপাতত বিচ্ছিন্ন না করে অন্তত ছয় মাস জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মাসিক বিল পরিশোধের নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে ৯০ দিনের বিলম্ব সুবিধা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চেম্বারের দাবি, এসব সুবিধা দেওয়া হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।











