প্রতিটি বাড়িতে পাহারাদার দেওয়া সম্ভব নয়: রাজউক চেয়ারম্যান
অনলাইন ডেস্ক : ভবন নির্মাণে নিয়ম লঙ্ঘন ঠেকাতে রাজউকের তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তবে প্রতিটি বাড়িঘরের নির্মাণকাজ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবন নির্মাণে অনিয়ম দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর পেছনে শুধু একটি পক্ষ দায়ী নয়; ভবনের মালিক, আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং রাজউকের কিছু পরিদর্শকের মধ্যে অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে।
নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভবন মালিকরা অনুমোদিত নকশা থেকে সরে গিয়ে কাজ করেন এবং পরিদর্শকদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে পরবর্তী সময়ে তারা ভবনের ব্যবহার অনুমতিপত্র বা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পেতে সমস্যায় পড়েন।
তবে কেউ যদি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণের পরও হয়রানির শিকার হন কিংবা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট না পান, তাহলে প্রমাণসহ অভিযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। এমন অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন রাজউক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নিয়ন্ত্রক ভূমিকা এখনও দুর্বল। অতীতে শুধু স্থাপত্য নকশার ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হলেও ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল ও কাঠামোগত নকশার বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পেত না। বর্তমানে পুরোনো ভবনের ত্রুটি সংশোধন ও রেট্রোফিটিংয়ের দায়িত্বও রাজউককে নিতে হচ্ছে।
ভবন নির্মাণে অনিয়ম ঠেকানোর সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি বাড়ির পেছনে একজন করে পরিদর্শক রাখা বাস্তবসম্মত নয়। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া বা বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় স্থাপনের মতো বিষয়গুলোও শুধু রাজউকের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংলাপে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, দুর্বল মাটির ওপর যত শক্তিশালী ভবনই নির্মাণ করা হোক, বড় ধরনের ভূমিকম্পে সেগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, শুধু ভবন পরিদর্শন বা অভিযোগ গ্রহণের মধ্যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ মাটিতে ভবন বা আবাসন প্রকল্প নির্মাণ ঠেকাতে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।











