,

নবীনগরে মঞ্চায়িত হলো ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘কাজল রেখা’

news-image

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : বাঙ্গালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত যাত্রাপালা। একটা সময় শহর কিংবা গ্রামে রাতভর মঞ্চস্থ হতো যাত্রাপালা। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভীড় করতো আসরে তাদের প্রিয় শিল্পীদের অভিনয় দেখার জন্য। আধুনিকায়নের এই যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই ঐতিহ্য।

তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চুউরিয়া গ্রামবাসীর আয়োজনে মঞ্চায়িত হলো ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘কাজল রেখা’। মঙ্গলবার (০৮ই এপ্রিল) রাতে উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়নের চুউরিয়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে উৎসবমূখর পরিবেশে এই যাত্রাপালাটি মঞ্চায়িত হয়। যাত্রাপালার শুভ উদ্বোধন করেন এলডিসি গ্রুপের কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিতে যাত্রাপালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি নেতা কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের পক্ষে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ মাইনুদ্দিন মাইনু।

যাত্রাপালায় প্রধান মেহমান ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আবু হাসনাত আলম রাজীব ভূঁইয়া।

সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় এসময় প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ ফরহাদুল ইসলাম।

শামসুল হক রচিত ও আলাউদ্দিন নসু পরিচালিত ঐতিহাসিক যাত্রাপালা কাজল রেখা মঞ্চায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন যাত্রাদলের সভাপতি মোঃ আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি মোঃ জয়নাল মিয়া, ম্যানেজার মোঃ রুবেল মিয়া, ক্যাশিয়ার মোঃ মনির হোসেন, কাকন ফ্যাশন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ওয়াদুদ সওদাগর, ওমান প্রবাসী শাহ আলম ও সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ রাশেদ।

এসময় বাঙ্গালির বিনোদনের অন্যতম বাহক যাত্রাপালা দেখতে মুক্তমঞ্চে ভিড় করেন কয়েক হাজার নারী পুরুষসহ নানা বয়সী দর্শনার্থী।

যাত্রা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এখন কোথাও যাত্রাপালা হতে দেখি না। এখানে যাত্রাপালা হবে শুনে দেখতে এসেছি। তবে দীর্ঘ দিন পর হলেও যাত্রাপালার অনুষ্ঠান করায় আমরা অনেক খুঁশি। তারা আরো বলেন, যাত্রাপালা বাঙ্গালির সংস্কৃতির একটি অংশ কিন্তু আধুনিকায়নের ফলে এটি হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজনের প্রত্যাশা করেন তারা।

আয়োজকরা জানান, বাঙ্গালির প্রাণের অনুষ্ঠান হলো যাত্রাপালা। দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে সাংস্কৃতি অঙ্গন থেকে যাত্রাপালা প্রায় বিলুপ্তির পথে এবং এ শিল্পের সাথে যারা জড়িত রয়েছেন তারা দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। যাত্রাপালার চর্চার মাধ্যমে তারা আবার ফিরে আসবেন। আয়োজকরা মনে করেন এ শিল্পটির পূর্ণজাগরণ দরকার। তাই তাদের সবার প্রত্যাশা সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতায় আবারও বাঙ্গালির প্রাণের সংস্কৃতি যাত্রাপালা পূর্বের মতো মঞ্চায়িত হবে। যাত্রা শিল্পীদের অভিনয়, সুর, ছন্দ ও নৃত্যের মোর্ছনায় বাঙ্গালীর সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত যাত্রাপালা যাত্রাপ্রেমীদের মনকে আনন্দিত করবে যুগ থেকে যুগান্তরে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড