,

দীর্ঘদিন পর এহসান গ্রুপের উপদেষ্টা গ্রেপ্তার

news-image

পিরোজপুর প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর পিরোজপুরে অর্থ আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতিসহ মোট ১৭টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এহসান গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুর রব খানকে (৭০) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। আজ শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

গ্রেপ্তার মাওলানা আব্দুর রব খান এহসান গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা এবং পিরোজপুর শহরের খলিশাখালী আশরাফুল উলুম কাওমি মাদ্রাসা ও জান্নাতুল মাওয়া মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক।

গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান। তিনি জানান, পিরোজপুরে এহসান গ্রুপের নামে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের যে মামলা ছিল সেই মামলায় আব্দুর রব খানের নামে ১৭টি ওয়ারেন্ট রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।

তিনি আরও জানান, মাওলানা আব্দুর রব খান ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামি, তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় প্রতারণার মাধ্যমে এহসান গ্রুপের এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্সের মাধ্যমে ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে বিনিয়োগের নামে অধিক লাভের প্রলোভনে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা মাত্র ৪২৭ জন হলেও তারা পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বাগেরহাট এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে শুধু রশিদের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে আমানত নিয়েছে।

২০১১ সালে এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাগীব আহসান তার স্ত্রী সালমা আহসানকে চেয়ারম্যান করে এহসান রিয়েল এস্টেট নামে প্রতিষ্ঠান খোলেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্ঠা হন রাগিব আহসানের বাবা মাওলানা আব্দুর রব খান। এরপর রাগীব আহসানসহ তার ভাইয়েরা ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে পিরোজপুর, বাগেরহাট ও ঝালকাঠির সাধারণ মানুষদের মাঝে প্রচারণা চালান যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে সুদবিহীন প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ পাবেন। তাদের প্রলোভনে পড়ে মানুষ ১০ বছর, ছয় বছর, ৫৬ মাস ও ৫৪ মাস মেয়াদে বিনিয়োগ করে।

এলাকার মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন লোকজনকে তার প্রতিষ্ঠানের ফিল্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগসহ তিন জেলাকে ১১টি জোনে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফিল্ড অফিসাররা আত্মীয়-স্বজনসহ সাধারণ মানুষকে প্রলোভনে ফেলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এহসান গ্রুপে। বর্তমানে এসব মামলায় আব্দুর রব খানের চার ছেলেই কারাগারে আটক রয়েছেন।