,

বংশাই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি

news-image

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পানি কমার সাথে সাথে পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারাজনী গ্রামে বংশাই নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় এই বাড়িগুলো বংশাই নদীগর্ভে বিলীন হবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

বিগত সময়ে ওই এলাকাসহ শুকনো মৌসুমে বংশাই নদীর পার থেকে চলে মাটি কাটা এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি বছর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। আবার পানি কমার সাথে সাথে শুরু হয় একই খেলা।

বংশাই নদীর এই ভাঙনে পৌরসভার ওই এলাকার এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর এবং শতাধিক একক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ বছরও পানি কমার সাথে সাথে গত কয়েক দিনের ভাঙনে বেশ কয়েকটি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

এ ছাড়া আরও প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙনের হাত থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য অনেকে ঘরের বেড়া ও চালা খুলে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ (৬০) বলেন, পানি কমার সাথে সাথে গত কয়েক দিনের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি বাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে।

এ ছাড়া কয়েকটি বাড়ির ঘরের চালা খুলে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নজরুল ইসলামের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, গত শুক্রবার রান্না করার সময় ভাঙন শুরু হয়, রান্না শেষ না হতেই রান্নাঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

ইন্তাজ আলী (৭০) বলেন, তার বাড়ি ছিল চৌদ্দ ডিসেমল। এখন চৌদ্দ হাতও নেই। এই বাড়ি ছাড়া তার এক ডিসেমল বাড়তি জমিও নেই। এখন এই বয়সে পরিবার নিয়ে আমি কোথায় যাবো।

তার মতো ওই এলাকার নাজিমুল, খালেক, সুলতান, সোনাব আলী, বিল্লাল, আশরাফ, আহিলা, রহমান, মোকছেদ, মুনছেরের বাড়িও নদী গর্ভে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত প্রায় দেড় যুগ ধরে মন্ত্রী সচিব এমপি মেয়র অনেকেই এসেছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার বলেন, ভাঙনকবলিত ওই এলাকায় অনেক আগে গিয়েছিলাম। বর্তমানের ভাঙনের খবর আমার জানা নেই।

ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় উপসহকারী প্রকৌশলীকে পাঠানো হবে।

তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে ১৭২ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

যানজট কমাতে নবীনগরে বিকল্প সড়ক, উদ্বোধন করলেন এমপি আব্দুল মান্নান

নবীনগরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে বিজিবির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

নবীনগরে ইব্রাহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোছা গ্রেপ্তার

উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

৪০ ঘণ্টা পর আসাদুলের মরদেহ হস্তান্তর

ক্যাটরিনার বাড়িতে রণবীর, সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের ৭ দিনের কর্মসূচি

ঢাকায় মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির আভাস

ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১২৯