,

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ। বিশ্বে আত্মহত্যা প্রতিরোধে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা দিবসটি পালন করে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করো।’

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, পারিবারিক নির্যাতন, কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পরীক্ষা ও প্রেমে ব্যর্থতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, প্রাত্যহিক জীবনের অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং মাদক ইত্যাদি কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ৮ লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। সংস্থাটির মতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। এ ছাড়াও এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ গুণ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যা প্রবণতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দশম। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ এই দিবস পালিত হচ্ছে।

দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী; অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৪৫ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। আর সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের আত্মহত্যার প্রবণতা ছাত্রদের তুলনায় বেশি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ সমীক্ষার প্রতিবেদন তুলে ধরে আঁচল। দেশের দেড় শতাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টালে গত আট মাসে প্রকাশিত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

আঁচলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯৪ জনই স্কুলপড়ুয়া। এ ছাড়া ৭৬ জন কলেজপড়ুয়া, ৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয়পউয়া এবং ৪৪ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। শিক্ষাস্তর বিবেচনায় দেখা গেছে, এ সময়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৫৩ দশমিক ৩০, কলেজপড়ুয়া ২০ দশমিক ৮৮, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ১৩ দশমিক ৭৪ এবং ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

সংগঠনটি বলছে, আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের অবস্থান বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকায় গত আট মাসে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১, রংপুর বিভাগে ৮ দশমিক ৭৮, বরিশাল বিভাগে ৯ দশমিক ৬২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ দশমিক ৪২, রাজশাহী বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ এবং সিলেট বিভাগে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাকে আত্মহত্যার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা পরিবার থেকে কোনো কিছু না পেয়ে অভিমান করেও আত্মহত্যা করেছে। মোটরবাইক, মোবাইল চেয়ে না পাওয়ার কারণে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। প্রত্যাশা পূরণ না হলে কীভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক বড় ধরনের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার সময়ে দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকার ফলে অনেকের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এসেছে। রাগ বেড়েছে, মানসিকভাবে সহজেই ভেঙে পড়ার হারও বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে পড়াশোনার চাপও। এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যাও বেড়েছে আগের চেয়ে।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড