,

চড়া মাছ ও ডিমের বাজার

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডলার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশের বাজারে গত কয়েক মাস ধরে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। তবে সারা দেশে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি ও ভারত থেকে আমদানির খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে অন্তত ৩-৬ টাকা কমতে শুরু করেছে।

এদিকে ডিমের বাজারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়তে না ছাড়তেই আবারও বাড়তে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও ডিমের ডজন ১২০ টাকা হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

ডিমের দাম বাড়তির বিষয়ে মধ্যবাড্ডা কাঁচাবাজারের ডিম ব্যবসায়ী সাঈদুর রহমান বলেন, আমরা এখনও ১২৫ টাকা ডজনে বিক্রি করছি। তবে খবর পেয়েছি পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে। এতে ডজন ১৩০ টাকা হবে বলে ধারণা করছি।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। ঢাকা উদ্যানের বিসমিল্লাহ রাইসের চাল বিক্রেতা রিয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১০ দিন আগের তুলনায় এখন চালের দাম অনেক কম। কেজিপ্রতি ৩-৬ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওএমএসে চাল বিক্রি শুরুর পর থেকে বাজারে দাম কমছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকার খোলাবাজারে ৩০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি শুরু করার পর থেকে বাজারে বিক্রিতে কিছুটা ধস নেমেছে। তাছাড়া ভারত থেকে সরকারের চাল আমদানির সিদ্ধান্তেরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে। সব মিলিয়ে চালের বাজার এখন কমতির দিকে আছে।’

এদিকে ঢাকার বাজারের মতো দিনাজপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজি চালের বস্তার দাম ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনাজপুরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাহাদুর বাজারের এনএ মার্কেটে বিআর-২৮ জাতের চাল ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে; যা সাত দিন আগে বিক্রি হতো ২ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৯৫০ টাকায়। একইভাবে বিআর-২৯ ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ২ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা। ‘সুমন স্বর্ণার’ বর্তমান দর ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা; সাত দিন আগে ছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা। ‘গুটি স্বর্ণার’ বর্তমান দর ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা; আগে ছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪৫০ এবং মিনিকেটের বর্তমান বাজার দর ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা; আগে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা ছিল।

চাল ছাড়াও বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫ ও আলু ২ টাকা কমেছে। খোলাবাজারে ৪৫ টাকার পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ ও ৩০ টাকার আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকায়।

রামপুরার মুদিদোকানি রাতুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ থেকে বাজার ঠাণ্ডা রয়েছে। গেল বুধবার থেকে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আগে বিক্রি করতাম ৪৫ টাকায় এখন করছি ৪০। আলুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। প্রতি কেজি আলু ২৮ টাকায় বিক্রি করছি; যা দুদিন আগেও ৩০ টাকা করে বিক্রি করতাম।’

ঢাকার বাজারের মতো হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, হিলিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারিতে দাম কমেছে ৭ টাকা। এক দিন আগে ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮-১৯ টাকা দরে।

পেঁয়াজের দাম কমলেও রাজধানীর বাজারে আরেক দফা চিনি ও প্যাকেটজাত লবণের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি খোলা সাদা চিনি ৯০, প্যাকেটজাত লাল চিনি ১০৫ এবং প্যাকেটজাত সাদা চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের ৩৫ টাকার লবণ ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল ও পেঁপে ছাড়া ৫০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০, ঢেঁড়স ৫০, কাঁকরোল ৫০-৫৫, পটোল ৪০, কাঁচা মরিচ ৬০-৮০, কচুর মুখী ৬০, চিচিঙ্গা ৫০, করলা ৬০-৭০, গাজর ১৫০-১৬০, টমেটো ১২০ ও শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শিমু টাউন হল বাজারে সবজি কিনছিলেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে বাসায় যেকোনো তরকারির সঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি ভাজি থাকত। কিন্তু গত কয়েক মাস থেকে এক পদের তরকারিতেই ভাত খাওয়া হচ্ছে সবার। আমদানি করা সবকিছুর দাম তো বেড়েছেই, পাল্লা দিয়ে দেশে উৎপাদিত সবজির দামও বেড়েছে। এমন হলে মানুষ খাবে কী?’

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সরবরাহ ঘাটতির কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানি ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্রয়লারের দাম কমলেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় দেশি ও পাকিস্তানি লাল মুরগির দাম বেড়েছে। ২০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ আর দেশি মুরগি ৪৮০ টাকায়; যা গত সপ্তাহেও ৪৫৫-৪৬০ টাকা ছিল।

মালিবাগের পোলট্রি ব্যবসায়ী মোখলেসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন প্রায় সব পণ্যের দাম বেশি। তাই মুরগির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি করতাম ১৮০ টাকার ওপর। এ সপ্তাহে করছি ১৭০ টাকা।’ পাকিস্তানি ও দেশি মুরগির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ কম দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাজারে যতটা চাহিদা রয়েছে তার থেকে কম মুরগি আসে। আর কম বলেই দাম বেড়েছে।’

এদিকে মাছ ও ডিমের বাজার ঘুরে মূল্যবৃদ্ধির পুরনো চিত্র দেখা গেছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া ডিম এখন ১৩০ টাকা। এ ছাড়া গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরেই মাছের বাজার বাড়তি রয়েছে। তেলাপিয়া ২০০, ৫০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৭০০, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০, থাই পুঁটি ২০০-২৫০, দেশি শিং কেজি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না