,

‘পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে গর্বাচেভ ছিলেন অতি রোমান্টিক’

news-image

অনলাইন ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, শেষ সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন একথা সত্য। তিনি এও বুঝতে পেরেছিলেন যে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু তিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে ‘চিরন্তন প্রেমে’ বিশ্বাস করে ভুল করেছিলেন’।

পুতিনের মতে, তিনি সংস্কার প্রবর্তন করেছিলেন, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঠেকাতে অক্ষম ছিলেন এবং অনেক রাশিয়ান বছরের পর বছর ধরে চলা অশান্তির জন্য তাকেই দায়ী করেছিল।

পুতিন বলেন, ‘তিনি গভীরভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে সংস্কারগুলো প্রয়োজনীয় ছিল। তাই তিনি জরুরী সমস্যার নিজস্ব সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে ভুল বুঝেছিলেন’।

২০০৬ সালে পুতিন ও গর্বাচেভের মধ্যে শেষ বৈঠক হয়। এরপর থেকেই গর্ভাচেভের সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তবে মঙ্গলবার গর্ভাচেভের মৃত্যুতে পুতিন গভীর শোক প্রাকাশ করেন। ৯১ বছর বয়সী গর্বাচেভ মঙ্গলবার মস্কোর একটি হাসপাতালে মারা যান।

গর্বাচেভ পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণ করার সিদ্ধান্তেও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন, যদিও তিনি ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের সময় পুতিনের সমর্থন করেছিলেন।

পুতিনের মুখপাত্র, দিমিত্রি পেসকভ বলেন, গর্বাচেভ ‘আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন যে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন সোভিয়েত ইউনিয়নের যাত্রা শুরু হবে। আর পুরো বিশ্বসহ পশ্চিমের সঙ্গেও সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘চিরন্তন প্রেমের’ সূচনা হবে। কিন্তু তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল।’

সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভের মৃত্যু গত শতকের ৯০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের ইতি, রাশিয়ার সেসময়কার অভ্যন্তরীণ টালমাটাল ঘটনাপ্রবাহকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

মিখাইল গর্বাচেভের মৃত্যুতে পশ্চিমের রাজনৈতিক নেতারা দলে দলে শোক প্রকাশ করছেন ও তার ভুমিকার ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।

পশ্চিমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘সোভিয়েতের কারাগারে বন্দি কোটি কোটি মানুষের মুক্তিদাতা’, অন্যদিকে রাশিয়ার নবীন-প্রবীণ অনেকের কাছে তিনি খলনায়ক, ‘যিনি রাশিয়ার বৈশ্বিক প্রভাব মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন’।

স্নায়ু যুদ্ধের উত্তেজনাকর সময়ে পৃথিবীর অন্যতম ক্ষমতাধর জোটের দায়িত্ব পাওয়া এ ব্যক্তি গ্লাসনস্ত আর পেরেস্ত্রইকা দিয়ে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক শাসনকাঠামো আমূল বদলে ফেলার মিশনে নামেন। তার ওই মিশন, রাজনৈতিক খোলা হাওয়া আর মুক্ত বাজার অর্থনৈতিক উদারীকরণের একের পর এক ঝটকায় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পূর্ব ইউরোপের মানচিত্র বদলে যায়। বাঁক বদল ঘটে ইতিহাসেরও। রক্তপাতহীনভাবে স্নায়ু যুদ্ধের অবসান ঘটালেও সোভিয়েত পতন ঠেকাতে ব্যর্থ হন তিনি।

গর্বাচেভ পেরেস্ত্রোইকা ও গ্লাসনস্ত নামে উদারীকরণের যে দুই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, তাই রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতন ত্বরান্বিত করেছিল বলে তার সমালোচকরা বলে থাকেন।

প্রবাদপ্রতীম কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের গড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৯১ সালে ভেঙে পড়লে আলাদা আলাদা ১৫টি জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠে, তার মধ্যে বড়টি হল আজকের রাশিয়া।

পরাশক্তি থেকে রাশিয়াকে দুর্দশাগ্রস্ত দেশের কাতারে নিয়ে আসার জন্য অনেক রুশ এখনও গর্বাচেভকে ক্ষমা করতে পারেন না বলে কথিত আছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না