,

আফগানিস্তানে বন্যায় প্রাণ গেল ১৮২ জনের

news-image

অনলাইন ডেস্ক : আফগানিস্তানে চলতি মাসে বন্যায় ১৮২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরও ২৫০ জন মানুষ। প্রবল বর্ষণের পর মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় আফগান প্রদেশগুলোতে সৃষ্ট বন্যায় এই হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। ক্ষমতাসীন তালেবান কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলতি মাসে আফগানিস্তানে বন্যায় ১৮২ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তিন হাজার ১০০টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। নিহত হয়েছে হাজার হাজার গবাদি পশু। যা দেশের অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট আরও বেশি বাড়িয়ে তুলেছে।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তানের পক্ষে একা এই বন্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আর তাই পুরো বিশ্ব, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ইসলামিক দেশগুলোকে আমাদের সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি।’

চলতি বছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভুগছে আফগানিস্তান। এর মধ্যে খরাসহ গত জুন মাসে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পের ঘটনাও রয়েছে। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

প্রায় দুই দশক পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের দখল নেয় তালেবান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তালেবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেয়। অবশ্য সরকার গঠন করলেও বিশ্বের কোনো দেশই এখনো পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর জেরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাসহ অর্থ সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

অবশ্য বৈশ্বিক মানবিক সংস্থাগুলো কয়েক মাস ধরে দেশটিতে সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু এসব সংস্থা বারবার সতর্ক করছে, হাজার হাজার গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির সংকটজনিত মানবিক বিপর্যয় এড়াতে তাদের আরও কাজের সুযোগ এবং তহবিল প্রয়োজন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের মধ্য লোগার প্রদেশের খোশি জেলায় সাহায্য কর্মীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শক্তিশালী বন্যার কারণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে ফসলের ক্ষেত কাদায় ভরে গেছে এবং মৃত পশুর মৃতদেহ স্তূপ হয়ে পড়ে আছে।

জাতিসংঘের শিশু সংস্থা জানিয়েছে, খোশি জেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ছয় শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছে এবং আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। ইউনিসেফ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান অ্যান কিন্ড্রাচুক বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর বলেছেন, ‘মানুষ সবকিছু হারিয়েছে। তারা এখনো নিশ্চিত নয় যে পরবর্তীতে কী হবে, তারা এই শীতে কীভাবে খাবে, তাদের জীবিকা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’

উল্লেখ্য, গ্রীষ্মকালে প্রায়ই উত্তর এবং পূর্ব আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার ফলে প্রতি বছর শত শত মানুষ মারা যায়। গত বছর রাজধানী কাবুল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে প্রত্যন্ত কামদেশ জেলায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া নিখোঁজ হয় আরও বহু মানুষ। এর আগে ২০২০ সালে উত্তর ও পূর্ব আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকর শহরের বড় অংশজুড়ে বন্যার কারণে কমপক্ষে ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছিল।

বন্যা এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রতি বছর অসংখ্য আফগান নাগরিক মারা যায়। বিশেষ করে দরিদ্র গ্রামীণ এলাকায় দুর্বলভাবে নির্মিত বাড়িগুলো প্রায়ই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

সরকারি চাকরীজীবীরা কাজের সঙ্গে চুরিও করে: পরিবেশমন্ত্রী