,

‘হাওয়া’ বিতর্কে যা বললেন নির্মাতা

news-image

বিনোদন প্রতিবেদক : সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত মেজবাউর রহমান সুমনের আলোচিত সিনেমা ‘হাওয়া’। জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ অভিনীত সিনেমাটি এরই মধ্যে হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সপ্তাহখানেক না পেরুতেই ‘হাওয়া’ জায়গা করে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়। তবে বাংলা সিনেমার এই সাফল্য যেন মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। আর তাই ‘হাওয়া’ ঘিরে নানা অপ্রপচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

শুরুতে কথা রটে ‘হাওয়া’র গল্প নকল! কোরিয়ান সিনেমা ‘সি ফগ’র অনুকরণে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। উত্তরে সিনেমার নির্মাতা সুমনের ভাষ্য, ‘হ্যা সিনেমাটির সঙ্গে কোরিয়ান সিনেমার মিল আছে! আমার সিনেমা নির্মিত হয়েছে সাগরে আর ব্যবহার করা হয়েছে একটি ফিশিং বোট। আর কোরিয়ান ছবিটিও নির্মিত হয়ে সাগরে, ব্যবহার করা হয়েছে মানবপাচারের জন্য একটি জাহাজ। এখানে মিল আছে সাগর আর জাহাজ। এখন এমন অনেক সিনেমা আছে যেখানে সাগর-জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে; তাহলে কি সবগুলো সিনেমা নকল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর আমি কিন্তু কখনো বলিনি আমার ছবি মৌলিক গল্পের। শুরু থেকেই বলে এসেছি এটি আঞ্চলিক ও হৃদয়ের গল্প। এখন যদি মিল খোঁজা হয় তাহলে দেখবেন বিশ্বের কোনো না কোনো ছবির সঙ্গে এর মিল আছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আর ভালো লাগে না। আর দর্শক ইতিমধ্যেই সিনেমাটি দেখে সুন্দরভাবেই বুঝে গেছে “হাওয়ার”র সঙ্গে “সি ফগ”র কোনো মিল নেই।’

এদিকে, গতকাল থেকে ‘হাওয়া’র বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কী আপনার নজরে এসেছে? জানতে চাইলে মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘আসলে সম্প্রতি সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো দিয়ে দেশের মানুষ হলমুখী হয়েছেন- এটা অনেকে পছন্দ করছেন না। যারা বাংলা সিনেমা আবার সগৌরবে রাজত্ব করুক চায় না, তারা নানা গুজব রটাচ্ছে। আমার সিনেমার শুরুতেই বলে দিয়েছি, এই ছবির শুটিং করার সময় কোনো প্রাণী হতাহত বা ক্ষতি করা হয়নি। আমরা কিন্তু সকল নিয়ম মেনেই ছবিটি তৈরি করেছি।’

বন্যপ্রাণীর বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ছবিতে অনেক অ্যানিমেশন ব্যবহার করেছি। যেমন- পাখি, মাছসহ অনেক অ্যানিমেশনের কাজ করা হয়েছে। যা দেখলেই দর্শক বুঝবেন। যে বন্দী পাখীর কথার ও খাওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা হলো- ছবিতে বন্দী পাখীটি অ্যানিমেশনে করা আর খাওয়ার বিষয়টি চঞ্চল ভাই (চঞ্চল চৌধুরী) মুরগির মাংস খেয়েছেন। এ ছাড়া আর কিছুই না।’

সবশেষে ‘হাওয়া’র নির্মাতা বলেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমি বহুদিন ধরে কাজ করছি। তবে সিনেমায় আমি নতুন। বর্তমান সময়ের নির্মিত সিনেমাগুলো দেখতে মানুষ হলমুখী হয়েছেন। এটা আমাদের আনন্দে গ্রহণ করা উচিত। এ নিয়ে বিতর্ক করে দয়া করে ইন্ডাস্ট্রিটাকে ধ্বংস করবেন না। দর্শক হলমুখী হলে অনেক নির্মাতাই আবার নতুন করে আশার আলো দেখবেন, প্রযোজকরা এখানে বিনিয়োগ করার জন্য আসবেন। দয়া করে, এই পরিবেশটা নষ্ট করবেন না।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জয় করে এবার ‘হওয়া’ বইবে বিদেশেও। ওশেনিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের বড় চারটি দেশে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। এমনটাই জানিয়েছে এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড ও নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন।

তারা জানায়, দেশগুলো হলো- নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও আমেরিকা। এর মধ্যে আগামী ১৩ আগস্ট ওশেনিয়া মহাদেশের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে এবং ২ সেপ্টেম্বর সিনেমাটি মুক্তি পাবে উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়।

সুমন জানান, আপাতত চারটি দেশে মুক্তি পেলেও আগামীতে এর সংখ্যা আরও বাড়বে।

‘হাওয়া’ সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, নাসির উদ্দিন খান, সুমন আনোয়ার, সোহেল মণ্ডল প্রমুখ। এই সিনেমায় হাশিম মাহমুদের কথা ও সুরে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি এখন দেশের মানুষের মুখে মুখে। সিনেমার জন্য গানটি গেয়েছেন এরফান মৃধা শিবলু। আর সংগীত করেছেন ইমন চৌধুরী।

 

এ জাতীয় আরও খবর

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

সরকারি চাকরীজীবীরা কাজের সঙ্গে চুরিও করে: পরিবেশমন্ত্রী