,

লকডাউনে বেড়েছে চলাচল, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছেই। বেড়ে চলছে মৃতের সংখ্যা। পরিস্থিতি দিন দিন ভয়ংকর হচ্ছে। কিন্তু রাজধানীতে জনজীবনের চিত্র দেখে ভয়ংকর করোনা পরিস্থিতির কথা মনে হবে না। কঠোর লকডাউনের তেমন প্রভাব শুক্রবার চোখে পড়েনি ঢাকার সড়ক ও অলিগলিতে। শুধু অফিস-আদালত আর গণপরিবহন বন্ধ ছাড়া বাকি সব স্বাভাবিক। ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে চলাচল খানিকটা কম ছিল। কিন্তু অলিগলি আর কাঁচাবাজারে ছিল মানুষের ভিড়।

দেশজুড়ে চলা লকডাউনের নবম দিনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) লকডাউনের বিধিনিষেধ না মানায় ৫৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১২৯ জনকে এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি ট্রাফিক ৪১৪টি গাড়িকে ৮ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কঠোর বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়।

শুক্রবার সারাদিন ঢাকার যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী, মতিঝিল, লালবাগ, আজিমপুর, শাহবাগ, মালিবাগ, মগবাজার, ফার্মগেট ও মিরপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় রাজপথ ছিল রিকশার দখলে। প্রাইভেটকারের চলাচল গত কয়েক দিনের তুলনায় কম ছিল, এর কারণ ছিল ছুটির দিন। জুমার নামাজ আদায়ে মসজিদগুলোতে মুসল্লির ভিড় দেখা গেছে।

মহল্লার অলিগলিগুলোতে ছিল জমাট আড্ডা আর কেনাবেচা। কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গা ঘেঁষাঘেঁষি করেই কেনাকাটা করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। মানুষের মুখে মাস্কের উপস্থিতিও ছিল কম। বিধিনিষেধের মাঝেই খোলা চায়ের স্টলগুলোতেও মানুষের আনাগোনা ছিল বেশ। সড়কের চেকপোস্টগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও চলাচল নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা ছিল কম। মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করতে দেখা গেছে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের।

গোপীবাগ আরকে মিশন রোডে দেখা যায়, কিছুদূর পরপর ভ্যানগাড়িতে সবজি, ফল ও পোশাক বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ভ্যান ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। ফুটপাতের চা ও ফাস্টফুটের স্টলগুলোও খোলা পাওয়া গেছে।

ফকিরাপুল বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখা যায় লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের জরিমানা করতে। শান্তিনগর কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা রাকিবুল আলম জানান, বাসায় সবজি নেই। তাই কিনতে বের হয়েছেন। কিন্তু বাজারে ভিড় আর স্বাস্থ্যবিধি মানতে লোকজনের অবহেলা দেখে শঙ্কা জাগছে। বের না হলেই ভালো হতো। অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক নেই। এভাবে তো সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না।

শাহবাগে কথা হয় ফুড ডেলিভারিম্যান শাখাওয়াতের সঙ্গে। ফুডপান্ডার অর্ডার নিয়ে যাচ্ছিলেন পরীবাগে। তিনি জানান, আগে একটি কোম্পানির মার্কেটিংয়ে কাজ করতেন। করোনায় চাকরি যাওয়ায় এখন ডেলিভারিম্যানের কাজ করছেন। লকডাউন চলায় অর্ডার বেশি হচ্ছে। প্রথম দিকের চেয়ে রাস্তায় এখন চলাচল বেড়েছে।

সকালে মতিঝিলের চেকপোস্টে পুলিশ গাজীপুর থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার থামায়। ভেতরের যাত্রী জানান, অসুস্থ মেয়েকে দেখতে ঢাকায় এসেছেন। কাগজপত্র চেক করে পুলিশ গাড়িটি ছেড়ে দেয়। দুপুরে সাতরাস্তায় পুলিশের চেকপোস্টে দেখা যায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও পিকআপ ভ্যান থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে। উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে। তবে এসব জেল-জরিমানা করেও লোকজনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

গাবতলীতে বোরকা ও পায়ে মোজা পরা একজন পথচারীকে সন্দেহের বশে আটকায় পুলিশ। পরে তল্লাশি চালিয়ে জানা যায় আটক ব্যক্তি আসলে একজন তরুণ। লকডাউনে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতেই সে এই ছদ্মবেশ নিয়েছিল। ডিউটিরত পুলিশ সার্জেন্ট আবু সুফিয়ান বলেন, ছেলেটি নিজেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলেছে। ওই তরুণ পুলিশকে জানায়, সাভারের হেমায়েতপুর থেকে হেঁটে হেঁটে রাজধানীতে এসেছে সে। যাত্রাবাড়ী যাবে। সে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছিল।

এ জাতীয় আরও খবর

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. রফিকুল ইসলামের

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের দল

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র দমনের অভিযোগ বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে: ডাকসু জিএস

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ

ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ চুরি, আটক ৪

সাজেকে অবরোধ স্থগিত, পর্যটকদের জন্য খুলল সব কেন্দ্র

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করতে কমিটি গঠন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা ও দরপত্র বন্ধের নির্দেশ

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ সদস্য