,

রাষ্ট্রপতির কাছে মায়ের জন্য প্রাণভিক্ষা চাইল ১২ বছরের ছেলে

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়ের প্রাণভিক্ষার জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছে অভিযুক্ত নারীর ১২ বছরের ছেলে।

দেশটির উত্তরপ্রদেশের সেই হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন শবনম আলী। সম্প্রতি আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। কারণ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে তিনিই হতে পারেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম নারী।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মায়ের মৃত্যুতে প্রাণভিক্ষা চেয়েছে তার ১২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ তাজ। শবনমের বান্ধবী উসমান সাইফি ওই শিশুকে লালন-পালন করছেন। তিনি বলেন, রামপুর জেলে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করেছে মোহাম্মদ তাজ।

খবরে বলা হয়, প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে মেনে নিতে না পারায় নিজের পরিবারের সাত সদস্যকে একসঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল ২৫ বছর বয়সী এক মেয়ে। ১৩ বছর আগের সেই ঘটনায় পুরো ভারতজুড়ে সাড়া পড়ে যায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী শবনম রামপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২৫ বছর বয়সে তিনি সেই ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিলেন।

ঘটনার সময় ২০০৮ সালের ১৫ এপ্রিল। ওই সময় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন শবনম। কিন্তু তাদের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি তার পরিবার। এক পর্যায়ে তিনিপরিবারের ৭জনকে দুধে বিষ মিশিয়ে সবাইকে হত্যা করেন। এর মধ্যে ১০ মাস বয়সী শিশুও ছিল।

খবরে বলা হয়, একই এলাকার বাসিন্দা সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শবনমের। সেলিমকে বিয়ে করবেন বলে জেদ ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়া ছেলের সঙ্গে মাস্টার্স পাস মেয়ের বিয়ে দিতে চাননি শবনমের পরিবারের লোকজন। তাতেই প্রেমিকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, শবনম তার মা, বাবা, দুই ভাই, ভাবি, ১০ মাসের ভাইপো এবং এক আত্মীয়কে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাইয়ে প্রথমে অজ্ঞান করেন। এরপর গলা কেটে হত্যা করেন সবাইকে।

২০১০ সালে শবনম এবং সেলিম দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আমরোহার দায়রা আদালত। এরপর গত ১১ বছরে সাজা মওকুফের জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং ভারতীয় রাষ্ট্রপতির কাছেও গিয়েছেন শবনম। নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান তিনি। কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শবনমের সেই আবেদন খারিজ করে দেন ভারতের শীর্ষ আদালত।

অবশ্য বিচার বিভাগীয় কমিটির কাছে আবেদনটি পুনর্বিবেচনা এবং কিউরেটিভ পিটিশন দায়েরের উপায় এখনও শবনমের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় আইন বিশেষজ্ঞরা। আইনের সব দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় বাধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে শবনমের ফাঁসি কার্যকর করার দিনক্ষণ ঠিক করতে আমরোহা দায়রা আদালতে ইতোমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে।
প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো মথুরা কারাগারই ভারতের একমাত্র কারাগার, যেখানে নারী আসামির ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাধীন ভারতে এখন পর্যন্ত কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হয়নি। তাই সেই ফাঁসির মঞ্চ এখনও অব্যবহৃতই রয়েছে।

কারা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে, মথুরা কারাগারে শবনমের ফাঁসির জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক এ প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মথুরার এক কারা কর্মকর্তা। বিহারের বক্সার কারাগার থেকে ফাঁসির দড়ি চাওয়া হয়েছে। জহ্লাদ গিয়ে ফাঁসিমঞ্চের সব পর্যবেক্ষণও করেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত শবনমের মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

এদিকে আদালতের রায়ে সন্তুষ প্রকাশ করে তার চাচা ও চাচী বলেছেন, এমন অমার্জনীয় অপরাধের জন্য কখনও ক্ষমা পেতে পারে না এই মেয়ে। আমরা তার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্ট।

 

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা