,

ইরফান মারধরের দায় নিচ্ছেন না, দেহরক্ষী বলছেন নির্দেশ ‘বসের’

news-image

নিউজ ডেস্ক : হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার যে অভিযোগ উঠেছে, তার দায় নিজের কাঁধে নিতে চাচ্ছেন না ইরফান সেলিম। তিনি বলছেন, তাকে বহনকারী গাড়িটির সঙ্গে ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে কোনও কিছু না জিজ্ঞেস করেই গাড়ি থেকে নেমে মারধর শুরু করেন তার দেহরক্ষী জাহিদ। জাহিদের মারধর দেখে অন্যরাও তার সঙ্গে যোগ দেন। অন্যদিকে ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদ বলছেন, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর আবার গাড়ি সামনে এসে দাঁড়ালে বসের (ইরফান) নির্দেশেই গাড়ি থেকে নেমে মারধর করেন তিনিসহ অন্যরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রথম তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম সমাধানে না পৌঁছাতে পারায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের ফের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে দুই দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

তদন্ত সংশ্নিষ্ট গোয়েন্দা এক কর্মকর্তা জানান, এমন মারপিটের ঘটনা এর আগেও একাধিকবার ঘটিয়েছেন তারা। কোনোটা সেভাবে আলোচনায় আসেনি। তাছাড়া যারা ইরফানকে চেনেন বা তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি সম্পর্কে জানেন—এসব নিয়ে কোথাও অভিযোগ করার সাহস করেননি তারা। ঘটনার দিন ইরফানকে বহনকারী গাড়ির পেছনে আরও একটি গাড়ি ছিল। স্বভাবতই কোনও গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে বা জ্যামে পড়লে তার দেহরক্ষীরা যেভাবে রাস্তায় নামেন, ঠিক সেভাবেই ঘটনার দিন নেমেছিল। এখানে কে নির্দেশনা দিয়েছেন, নাকি নির্দেশনার আগেই গিয়ে মারপিট শুরু করেছেন, সেই দায় কেউই নিতে চাচ্ছেন না।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মবিনুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আরও দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডে পেয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৬ অক্টোবর ভোরে হাজি সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান। মামলার আসামিরা হলেন—এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন।

এর আগের দিন ২৫ অক্টোবর রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজি সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেন। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

ওয়াসিফ আহমেদ এজাহারে অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে চলে আসেন।

মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো’। এই বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকেন। এরপর তারা পালিয়ে যান।

২৬ অক্টোবর সকালে মামলা দায়েরের পর ওইদিন দুপুরে র‌্যাব পুরান ঢাকার চকবাজারে হাজি সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ইরফান সেলিম ও জাহিদকে র‌্যাব তাদের হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুই জনকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেন। র‌্যাব তাদের দুই জনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি করে চারটি মামলা দায়ের করেছে। বাংলা ট্রিবিউন

এ জাতীয় আরও খবর

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. রফিকুল ইসলামের

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের দল

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র দমনের অভিযোগ বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে: ডাকসু জিএস

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ

ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ চুরি, আটক ৪

সাজেকে অবরোধ স্থগিত, পর্যটকদের জন্য খুলল সব কেন্দ্র

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করতে কমিটি গঠন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা ও দরপত্র বন্ধের নির্দেশ

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ সদস্য