,

মহানবী (সা.)’র খাদ্যাভ্যাস

news-image

ইসলাম ডেস্ক : শরীরের ওজন বেড়ে কিছুটা স্থূল হয়ে গেছে। কী করবেন ঠিক করে উঠতে পারছেন না। ডায়টেশিয়ান বিশাল এক লিস্ট ধরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু লিস্টটা মানতেও মন সায় দেয় না। এ অবস্থায় আপনার জন্য সহজ সমাধান মহানবী (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ। তার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা। নবীজি (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস-ই পারে আপনাকে এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে।

ডায়টেশিয়ানরা কম খেতে বলেন। আর মহানবী (সা.)-ও কম খেতেন। শুধু কম খেতেনই না, অনেক সময় তার ঘরে চুলায় আগুনও জ্বলত না এবং মহানবী (সা.) সপ্তাহে দুদিন (সোম-বৃহস্পতিবার) রোজা রাখতেন। (ফাতহুল বারি, হাদিস : ৪/২৭৮)

চিকিৎসকরা কম খেতে ও রোজা রাখতে বলেন। বস্তুত মাঝেমধ্যে রোজা রাখলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়। মহানবী (সা.)-এর জীবনে অলসতার কোনো স্থান ছিল না। নিজের কাজকর্ম তিনি নিজে করতেন। কখনো কখনো অন্য কাজও করতেন। এতে তার কায়িক শ্রম হতো।

কায়িক শ্রমের কথা চিকিৎসকরাও বলে থাকেন। নিবেদনপক্ষে দৈনিক কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি করতে। খাবার পেট ভরে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করার চেষ্টা করুন। পেটের একভাগ খাবার, একভাগ পানি ও আরেক ভাগ খালি রাখুন। মহানবী (সা.) এই পরামর্শ বহু আগেই দিয়ে গেছেন।

ডায়েটে আজকাল যা করতে বলা হয়, তার প্রায় সবটাই নবীজি (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাসে বিদ্যমান। নবী (সা.) কিছু খাবার খেতে পছন্দ করতেন। এর মানে এই না, ওই খাবারগুলো তিনি পেট পুরে খেতেন। ওই খাবারগুলোকে প্রাধান্য দিতেন, কিন্তু কমই খেতেন। মহানবী (সা.) খেজুর খেতেন। খেজুর তার প্রিয় ছিল। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল (সা.)-কে বার্লির এক টুকরো রুটির ওপর একটি খেজুর রাখতে দেখেছি। তারপর বলেছেন, ‘এটিই খাবার-মসলা।’ (আবু দাউদ : ৩৮৩০)

অন্য হাদিসে আছে, প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে বাড়িতে খেজুর নেই, সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই।’ এমনকি প্রিয়নবী (সা.) সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকেও খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। খেজুর কিন্তু ডায়েটের উত্তম খাদ্য। খেজুর শক্তি জোগায়। ক্ষুধা মেটায়। খেজুরের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাংগানিজ, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফলিক অ্যাসিড, আমিষ ও শর্করা। খেজুর শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিকরও বটে। তাই ডায়েটে উত্তম নাশতা হলো দু-চারটি খেজুর খেয়ে নেওয়া।

নবীজি (সা.) দুধ খেতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মিরাজের রাতে বায়তুল মাকদিসে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ে বের হলে জিবরাইল (আ.) আমার সম্মুখে শরাব ও দুধের আলাদা দুটি পাত্র রাখেন। আমি দুধের পাত্রটি নির্বাচন করি। জিবরাইল (আ.) বললেন, ‘আপনি প্রকৃত ও স্বভাবজাত জিনিস নির্বাচন করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৩১৬৪; তিরমিজি, হাদিস : ২১৩)

গরুর দুধে আছে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ পদার্থ যেমন ক্রোমিয়াম, ম্যাংগানিজ, আয়রন, কোবাল্ট, কপার, জিংক, আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। গরুর দুধের কম্পজিশনে পানি ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ল্যাকটোজ ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, ফ্যাট ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রোটিন ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। গরুর দুধ সব পুষ্টির আধার ও শক্তির উৎস। ডায়েটে দুধ খেতে বলা হয়। বয়স্কদের জন্য প্রতিদিন দুধ খাওয়া খুব প্রয়োজন। বিশ্বনবী (সা.) মধু খেতে পছন্দ করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) মিষ্টান্ন ও মধু পছন্দ করতেন।’ (বুখারি, ৫১১৫; মুসলিম, ২৬৯৫)

আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মধু হলো উত্তম ওষুধ।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৫৯)।

মধুর উপকারিতা বর্ণনাতীত। পবিত্র কোরআনে নাহল (মানে মৌমাছি) নামে একটি সুরা হয়েছে। শুধু মধু খেলে যে উপকার হয়, তা নয়। মৌমাছির জীবনকাল নিয়ে পড়াশোনা করলে বিস্মিত হতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি ইমান বৃদ্ধি পাবে। তার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা আসবে।

লাউ বা কদু খেতে নবী (সা.) পছন্দ করতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার একজন দর্জি রাসুল (সা.)-কে খাবারের দাওয়াত করেন। আমিও মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সেই খাবারে অংশগ্রহণ করি। রাসুল (সা.)-এর সামনে বার্লির রুটি এবং গোশতের টুকরা ও কদু মেশানো ঝোল পরিবেশন করা হয়। আমি দেখেছি, রাসুল (সা.)-প্লেট থেকে খুঁজে খুঁজে কদু নিয়ে খাচ্ছেন। আর আমিও সেদিন থেকে কদুর প্রতি প্রীত হয়ে উঠি। (মুসলিম : ২০৬১; বুখারি : ৫০৬৪)

লাউয়ে আছে ভিটামিন-এ ও বি কমপ্লেক্স, সি-সহ আছে ফলিক অ্যাসিড, ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ ছাড়া ১০০ গ্রাম লাউয়ে জলীয় অংশের পরিমাণ ৯৬ দশমিক ১০ গ্রাম, আঁশ শূন্য দশমিক ৬ গ্রাম, আমিষ শূন্য দশমিক ২ গ্রাম, চর্বি শূন্য দশমিক ১ গ্রাম, শর্করা ২ দশমিক ৫ গ্রাম এবং খাদ্যশক্তি ১২ কিলোক্যালরি। লাউ খেলে মোটা হওয়ার আশঙ্কা নেই।

খাবার নিয়ে অনেক সময় আমরা যাচ্ছেতাইভাবে খেয়ে ফেলি। অথচ খাবার খাওয়ার কিছু আদব আছে। হেলান দিয়ে কোনো কিছু খাওয়া যাবে না। নবীজি হেলান দিয়ে খেতে নিষেধ করছেন। নবী করিম (সা.) বালিশে বিশ্রাম নেওয়া অবস্থায় খাবার খেতেন না। (বুখারি)

বিশ্রামরত অবস্থায় খাবার খাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকরাও এভাবে খেতে নিষেধ করেন। দাঁড়িয়ে খেলে পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পানির কোনো পুষ্টিগুণ শরীরে শোষণ হয় না। এতে পাকস্থলীর ক্ষত, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়ে, কিডনি পানি শোষণ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় । রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫০১৭)

নবী করিম (সা.) দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। (মুসলিম : ৫০২০)

ধীরে-সুস্থে খাওয়া সুন্নত এবং স্বাস্থ্যসম্মত। তাতে খাবার ভালো করে চিবানো হয়। মুখের লালা খাদ্যের সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারে। হজম সহজতর হয়। রাসুল (সা.) ধীরে-সুস্থে খেতেন। একসঙ্গে বেশি খাবার মুখে দিতেন না।

খাওয়ানোর মালিক শুধুই আল্লাহ। আল্লাহর সম্মতি ছাড়া রিজিক আসে না। তাই এক ঢোক পানি খেলেও আলহামদুলিল্লাহ বলা দরকার। শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ রিজিক বাড়িয়ে দেন। তাই খাওয়া শেষে দোয়া পড়া উত্তম ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াসাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন।’ অর্থাৎ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের খাবার খাইয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন এবং আমাদের মুসলিম বানিয়েছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৫১)। দেশ রূপান্ত

এ জাতীয় আরও খবর

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা

সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে হুতি

রসদ সংকট ও সামরিক প্রস্তুতিহীনতায় দিশেহারা মার্কিন সেনা: দ্য ইন্টারসেপ্ট

র‌্যাব বিলুপ্ত, আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল এসআরবি

জনগণ যেমন আইন চায় তেমন আইনই আনবে সরকার : আইনমন্ত্রী

জনবল বাড়িয়ে ভোক্তা অধিকার সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউইয়র্কে উপসাগরীয় নেতাদের নিয়ে ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক