শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনার মাঝেই বন্যা, পাবনার তাঁতিরা সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে

news-image

পাবনা প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন ও সাধারণ ছুটিতে বেচাকেনা হয়নি পয়লা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতরের মৌসুমে। সারা বছরের পুঁজি হারিয়ে কোনমতে ঈদুল আজহায় লুঙ্গি বিক্রির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন পাবনার বেড়া উপজেলার তাঁতিরা। ঠিক এমন সময়েই মড়ার উপর খড়ার ঘা হয়ে এসেছে সর্বনাশা বন্যা।

একের পর এক দুর্যোগে সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে তাদের। তাঁতঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় তাদের তাতযন্ত্রই শুধু নষ্ট হয়নি, ঋণের টাকায় কেনা রং-সুতাও নষ্ট হয়েছে।

ভুক্তভোগী তাঁতিরা জানান, করোনায় কাজ না থাকায় মাস তিনেক প্রায় সবাই তাঁতই বন্ধ রেখেছিলেন তারা। কোরবানির হাটকে সামনে রেখে সপ্তাহ তিনেক আগে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ চেষ্টা ছিল তাদের। এনজিও ঋণ ও ধারদেনা করে কোনমতে সবাই কমবেশি তাঁত চালু করেছিলেন। কিন্তু সপ্তাহ খানেক আগে বন্যার পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার মুজিববাঁধ তীরের তাঁতপল্লীর গ্রামগুলোর তাঁতঘরসহ বাড়ির বসতঘরগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আত্মীয় বাড়িসহ অন্যের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে এসব পরিবারের লোকজন।

শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বন্যায় বেড়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে মালদাপাড়া, পেঁচাকোলা, উত্তর পেঁচাকোলা, রাকশা, সাফুল্যাপাড়া, বাটিয়াখরা, নেওলাইপাড়া, সোনাপদ্মা, রূপপুর, খানপুরাসহ তাঁত সমৃদ্ধ অন্তত ১৫টি গ্রাম রয়েছে। করোনার কারণে গ্রামগুলোর ১০ হাজার তাঁতশ্রমিক এমনিতেই ধুঁকছিলেন। বন্যা তাদের পথে বসিয়েছে। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বসতঘরগুলোও। সবচেয়ে বড় কথা হলো পানিতে ডুবে থাকায় তাঁতযন্ত্রগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। এখন তারা জীবন জীবিকা নিয়ে অস্থির হয়ে পড়েছেন। তাঁতঘর, বসতঘর ও অকেজো তাঁত অন্যথায় সরিয়ে নেয়া ও মেরামতের চিন্তায়। এর সঙ্গে খাবার যোগাড়ের চিন্তা তো আছেই বলে তাঁতিরা জানান।

পেঁচাকোলা গ্রামের তাঁতপল্লীতে হাতেগোনা দশ-বারোটি তাঁত কারখানা ছাড়া প্রায় সবকটি কারখানায় ঢুকেছে বন্যার পানি। কারখানায় হাঁটু পানির মধ্যেই কেউ কেউ লুঙ্গি তৈরির কাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।

তবে, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আগামী দুই তিন দিনের মধ্যেই এসব কারখানা ডুবে যাবে বলে জানান তাঁতিরা।

সোলেমান শেখ নামের একজন তাঁতি বলেন, করোনার জন্নি এমনিতেই আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়া গেছিল। শেষ সম্বল তাঁত দুইখান নিয়্যা বাঁচার আশা করিছিল্যাম। কিন্তু বন্যায় সেই আশাও শেষ হয়া গেল।

নেওলাইপাড়া গ্রামের রজব আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘ঈদের হাটের কথা চিন্তা করে কয়দিন আমার পাঁচ খান তাঁত থেকে লুঙ্গি বুনাইয়ে বেড়া ও শাহজাদপুর বিক্রি করলাম। এহনতো তাঁত ঘরই ডুবে গেছে। ধার করে অনেক টাকার সুতা রং কিনিছিলাম সব শেষ। বউ পোলাপান নিয়ে অন্যের বাড়িতে রইছি একেবারে সর্বস্বান্ত হয়া গ্যালাম।’

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিল্টু মিয়া বলেন, আমার ৪নং ওয়ার্ডসহ ৫নং ওয়ার্ডের পেঁচাকোলা ও নতুন পেঁচাকোলা গ্রামে অন্তত পাঁচ-সাতশ তাঁতি পরিবার বন্যাদুর্গত। উপজেলায় অন্যান্য গ্রামে আরও হাজারের বেশি তাঁতিদের একই অবস্থা। করোনার পর বন্যার আঘাতে তাঁতিরা নিঃস্ব হওয়ার পথে।

এসব এলাকায় এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহযোগিতা দেয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।

ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, বন্যাকবলিত তাঁতিদের বিষয়টি আমি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখব। বন্যাকবলিতদের জন্য আলাদা কোনো ত্রাণ সহায়তা না এলেও ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় বড় ধরনের ত্রাণ সহায়তা (ভিজিএফ) এর চাউল এসেছে। এসব ত্রাণ বিতরণে অসহায় তাঁতিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে চালকরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন

আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ভালোবাসা পেলাম, এবার তার যোগ্য হওয়ার পালা : ফারিয়া

অবশেষে অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মিশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমবায় সমিতির উদ্যোগ