বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘করোনা কবে যাবে, কবে জুটবে কাজ’

news-image

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : করোনার কারণে চুয়াডাঙ্গায় দিনমজুররাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের নিয়মিত কাজ জুটছে না। এ কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের শহীদ হাসান চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ভোরে যারা শ্রম বিকানোর জন্য মনিবের ডাকের প্রতীক্ষায় থাকেন, কাজ না পেয়ে তাদের প্রায় সবাইকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ‘কবে যাবে করোনা, কবে জুটবে কাজ’ তা কেউ জানে না। অথচ দিনমজুরদের অধিকাংশেরই ঘাড়ে রয়েছে ক্ষুদ্রঋণের বোঝা।

করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশ যখন সাধারণ ছুটির আওতায় ছিল তখন ত্রাণ বিতরণ করা হলেও কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকরা কিছুই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, আমাদের নামধাম লিখে নিয়ে গেল, ভোটার আইডি কার্ডও নিয়ে গেল অথচ চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কিছুই দিল না।

চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের কারণে কাজ করানোর কথা ভাবছেই না কেউ। নির্মাণ কাজও শূন্যের কোঠায়। রাজমিস্ত্রি ও মিস্ত্রির জোগালিদের অধিকাংশেরই দিন কাটছে কাজ ছাড়া। আর যারা দিনমজুরি করেই পরিবারের সদস্যদের দুবেলা দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা করেন তাদের দুর্দশার অন্ত নেই।

গত দু’দিন সকালে চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বরে কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা বেশকিছু দিনমজুরের সঙ্গে কথা হয়। এদের মধ্যে আলমডাঙ্গার হাড়োকান্দি গ্রামের বেল্টু, মরজেম হোসেন, ইদ্রিস আলী, অভিন্ন ভাষায় বলেন বেশ কিছুদিন ধরে কাজ জুটছে না। দিনমজুরি করে পাওয়া টাকায় সংসার চলে। আগে দুই-একদিন কাজ না হলেও পাড়ার দোকানদার চাল-আটা বাকি দিত, এখন তাও দিচ্ছে না।

এদের মধ্যে বেল্টু বললেন, একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলাম। ঋণের কিস্তি দিতে পারছি না।

হামিদুল ইসলাম বললেন, দেশে দিনমজুরি করে সংসার চলে না, তাই বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ করলাম। ঋণের টাকা আদম ব্যাপারীদের হাতে তুলে দিলাম। যখন শুনছিলাম ফ্লাইট হবে হবে, তখনই এল করোনা। কপাল খারাপ। জানি না, বিদেশে যাওয়া হবে কিনা।

সরকার যে এত এত ত্রাণ দিল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার বিতরণ করা হল, এসবের কিছু পাননি? এ সব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কাথুলী গ্রামের আবজেল মল্লিক, গাড়াবাড়িয়ার সুমন, দিগড়ির সাইদুর রহমান, গাড়াবাড়িয়ার হামিদ, কেদারগঞ্জের আজিজুল হক ও ভিমরুল্লা গ্রামের মতিয়ার রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘কারা কাদের ত্রাণ দিল তা তো চোখেই দেখলাম না। শুনলাম, সরকার গরিব মানুষদের মোবাইল ফোনে বিকাশ করে আড়াই হাজার টাকা দিচ্ছে। আমরা দিনমজুরি করি। দিন আনি দিন খাই। এরপরও কি মেম্বার-চেয়ারম্যানদের চোখে আমরা গরিব হলাম না?’

অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজন বললেন, ‘ঈদের আগে অনেক কিছু দেবে বলে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেল। নাম লিখে নিয়ে গেল। আশায় বুক বেঁধে বসে ছিলাম। কিছুই পেলাম না। এ সব কষ্টের কথা বলব কার কাছে!’ যুগান্তর

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে