,

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পুলিশের স্ত্রীর ফেসবুকে স্ট্যাটাস

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় ছয় বছর আগে নিজের খালাতো বোনকে বিয়ে করেন তৌহিদুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা। তবে বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় কলহ। এর জেরে স্ত্রীর পা ভেঙে দেন তিনি। ওই পুলিশের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে থানার দারস্থ হন স্ত্রী। কিন্তু সেখানে বিচার পাননি। শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ওই নারী। সেখানে পুলিশ স্বামীর নির্মমতার নানা চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিচারও দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগমারা উপজেলায়। তৌহিদুল ইসলাম ওই উপজেলার মৃত সাহেব আলীর ছেলে এবং শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক। আর তার স্ত্রী শাহনাজ পারভিনের বাড়িও একই উপজেলায়।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনটি ছবি পোস্ট করেন শাহনাজ পারভিন। ক্যাপশন তিনি লিখেন, ‘আর কত, আমিও মানুষ। আজ ১৪ দিন থেকে সইতে ছিলাম, এর আগেও চুপ ছিলাম, এবার চুপ থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আর না। কারণ কুকুর কোনদিন ভালো হয় না। পুলিশের চাকরি করে। বেআইনি কাজ করে। আর সইতে পারব না। ওর বোনের বা ভাই বা ওকে কেউ এমন করলে কি করতো?’

এরপর বিচার চেয়ে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে শাহনাজ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে দেখতে এসেই বিয়ে করেন খালাতো ভাই তৌহিদুল ইসলাম। এর কিছুদিন পর যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আমাদের কাছে। আমার সুখের সংসার টিকিয়ে রাখতে সে সময় তাকে নগদ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

‘এরপর বগুড়ায় চাকরির সুবাদে সেখানে গিয়ে আদম দিঘির চাপাপুর গ্রামের রিমা নামে এক নারীকে বিয়ে করেন তৌহিদুল ইসলাম। সে বিয়ে আমাকে মেনে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। আমি তার দ্বিতীয় বিয়ে না মানায় প্রায়ই আমার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তারপরেও সাড়ে তিন বছরের একটি বাচ্চা থাকায় নিরবে তার নির্যাতন সহ্য করে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি দ্বিতীয় বউ রিমাকে ঘরে তোলার জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় গত ১৪ দিন আগে মেরে আমার বাম পা ভেঙে দেয়। এ ছাড়াও শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে আমি কোনো রকমে শিবগঞ্জ থানার গেটের বাসা হতে বের হয়ে একা শিবগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাই। দিন দিন আমার স্বাস্থ্যের অবস্থা অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাবার বাড়ি বাগমারায় চলে আসি।’

বিষয়টি শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম, তদন্ত আতিকুল ইসলাম ও এসআই আনামকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো তৌহিদুলের পক্ষ নিয়েছে বলে জানান শাহনাজ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি স্ত্রী শাহনাজ পারভিনকে নির্যাতন করিনি। সিঁড়ি থেকে পড়ে তার পা ভেঙে গেছে। তিনি দ্বিতীয় বিয়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, শাহনাজের মাথায় সমস্যা আছে।’

শরীরে আঘাতের চিহ্নর কথা জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এলার্জি থাকায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে দাগ পড়ে গেছে।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, তাদের এটি পারিবারিক বিষয়।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর