,

যেভাবে আইএস প্রধান হয়েছিলেন বাগদাদি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অভিযানে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি নিহত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার নিজের ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘স্পেশাল ফোর্সের’ অভিযানের মধ্যে বিস্ফোরকভর্তি বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটান বাগদাদি। অপর প্রান্ত দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ না থাকায় একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে দৌড়ে গিয়ে মারা পড়েন বাগদাদি। যুক্তরাষ্ট্রের কুকুরগুলো তাড়া করায় ‘চিৎকার, আর্তনাদ ও কান্না করতে করতে’ যাচ্ছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এ সময় তিন শিশু সন্তান সঙ্গে ছিল বাগদাদির, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সবাইকে নিয়ে মারা যান তিনি।বিস্ফোরণে তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। পরে ডিএনএ টেস্টে তার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এরই মধ্যে বাগদাদির উত্থান ও জীবনপর্ব নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা। সেটি তুলে ধরা হলো-

বাগদাদির জন্ম হয়েছিল ইরাকের ছোট্ট শহর সামারায় একটি সুন্নি পরিবারে। যদিও ওই সময় বাগদাদির নাম ছিল ইব্রাহিম আল বদরি। ছোটবেলা থেকেই কোরআন ও ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি অসম্ভব টান ছিল তার। তা নিয়েই পড়াশোনা শুরু করে বাগদাদি। ১৯৯৬ সালে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজের ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর কোরানিক স্টাডিজে মাস্টার ডিগ্রি ও পরে ডক্টরেটও পান বাগদাদি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো তথ‌্য থেকে অবশ্য বাগদাদি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলেনি।

ওই সময়েই বাগদাদ শহরের কাছে একটি মসজিদে শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিতে শুরু করেন তিনি। সেইসঙ্গে চলতে থাকে তার ফুটবল চর্চাও। ক্লাব ফুটবলে রীতিমতো তারকা হয়ে উঠেছিলেন বাগদাদি। ২০১৩ সালে নিজেকে ‘খলিফা’ হিসেবে ঘোষণা করার পরই আইএস প্রধান হিসাবে উঠে আসে তার নাম। তবে ৪২ বছরে বাগদাদির কথা তেমনভাবে শোনা যায়নি। বরং, তা মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।

পরিবারের ধর্মীয় পরিবেশ জোরালো প্রভাব ফেলেছিল বাগদাদির ওপর। ইরাকে মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন বাগদাদির চাচা।

তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময়েই মুসলিম ব্রাদারহুডে যোগ দেন বাগদাদি। তবে, শুধুমাত্র সেই গণ্ডিতেই আটকে থাকেননি। ২০০০ সাল নাগাদ সালাফি জিহাদিদের সঙ্গে যোগ দেন বাগদাদি।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যেই আফগানিস্তানে জিহাদি প্রশিক্ষণ নেয় বাগদাদি।

নব্বইয়ের দশকে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ছাত্র ছিলেন বাগদাদি। ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনী যখন ফের ইরাকে অভিযান শুরু করে তখন বাগদাদি অবশ্য পুরোপুরি জঙ্গি। ২০০৪ সালে তাকে প্রথম এবং শেষবারের জন্য গ্রেপ্তার করেছিল মার্কিন বাহিনী। পাঠানো হয়েছিল বুক্কা ক্যাম্পে, সেখানে ১০ মাস কাটান বাগদাদি। তখন বেশিরভাগ সময়ই ধর্মীয় চর্চা করতেন বাগদাদি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির নেতাদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ঘটে।

বুক্কা ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ইরাকের আল কায়দা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাগদাদি। যদিও, পরে ওই জঙ্গি সংগঠন ভেঙে দিয়ে তার নাম রাখা হয় আইএস। বিরোধী গোষ্ঠীগুলিকে এক জায়গায় আনার ক্ষমতা, ধর্মীয় পড়াশোনা-সমস্ত কিছু বাগদাদিকে নেতা হিসাবে উঠে আসতে সাহায্য করেছিল।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর