,

জমে উঠছে নাটোরের কাঁচা চামড়ার বাজার

news-image

নাটোর প্রতিনিধি : সকল শঙ্কা কাটিয়ে অবশেষে জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচা চামড়ার বাজার নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকা। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, মাঝারি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া আড়তদার ও শ্রমিকদের পদচারণায় বাজারে যেন প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। তবে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা দু’চারদিনের মধ্যেই কেনাবেচায় আবারও সরগরম হয়ে উঠবে বাজারটি।

সরেজমিনে জানা যায়, গত শুক্রবার ছিল হাটবার। হাটকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লবনজাত কাঁচা চামড়া ভর্তি ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন প্রবেশ করে। সাধারণত এই হাটে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ বঙ্গের ৩২টি জেলার কাঁচা চামড়ার আমদানী হয়।

নওগার পত্বীতলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনসার আলী জানান, তার মত অনেক ব্যবসায়ী দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঝুঁকি নিয়ে এসব কাঁচা চামড়া কিনছেন। দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও থেমে নেই কেনা-বেচা।

রকিব উদ্দিন কমল নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদের সময় লোকবলের অভাবে কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে। কারণ এই গরমে চামড়াগুলো লবন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে তা পচে যায়।

চামড়া ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি কিছু গরুর চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো সাইজ ভেদে ৭’শ থেকে ৯’শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এক্ষেত্রে তার লোকসান হয়নি। বরং লাভ হয়েছে।

অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু মাত্র ঈদুল আজহার সময় নাটোরে ৯শ কোটি টাকার বেশি চামড়া কেনাবেচা হয়। ব্যসায়ীদের অভিযোগ, তাদের টাকায় ট্যানারি মালিকরা দামি গাড়ি ও বাড়িতে বসবাস করেন। অপরদিকে টাকার অভাবে তারা ব্যবসা করতে পারেন না।

নাটোরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গুণগত মান অনুযায়ী চামড়ার কেনা-বেচা হচ্ছে। ভাল চামড়া ভাল দামেই বিক্রি হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে।

নাটোরের বড় কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, নাটোরের বেশিরভাগ আড়তদার বর্তমানে কমিশন ভিত্তিক চামড়া কেনাবেচা করেন। তারা চামড়া প্রতি একটি কমিশন পেয়ে থাকেন। সুতরাং লাভ-ক্ষতির ব্যাপারটি নির্ভর করে তাদের উপড় যারা চামড়া নিয়ে আসছেন অথবা যারা চামড়া কিনছেন।

মঞ্জুরুল আলম হিরু নামে একজন আড়তদার জানান, গত ২২ তারিখে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইড স্কীন অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের চামড়া বাজারের অস্থিরতা অনেকটাই কেটে গেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে স্থানীয়ভাবে গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বর্গফুট এবং খাসির চামড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা বর্গফুট অনুসারে বিক্রি হচ্ছে। মহিষের চামড়াও সরকার নির্ধারিত মূল্যেই কেনা হচ্ছে।

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সহসভাপতি লুৎফর রহমান লাল্টু জানান, ঈদের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নাটোরে মূলত চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়। তখন বিভিন্ন ট্যানারি মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা চামড়া কেনা শুরু করেন। এখন বিভিন্ন জেলা থেকে চামড়া আসা শুরু হয়েছে। আগামি এক সপ্তাহ ধরে দেশের উত্তর পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৩০টি জেলা থেকে চামড়া নাটোরে আসবে।

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম আক্কু জানান, দু’চারদিনের মধ্যেই ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনতে নাটোরে চলে আসবে। আর ট্যানারি মালিকরা মার্কেটে এলে কেনাবেচা আরও বেড়ে যাবে। তৃণমূল পর্যায়ের সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঢল নামবে নাটোরে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহ মোহাম্মাদ রিয়াজ বলেন, আমরা চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার আহ্বান জানিয়েছি। যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং নাটোরের চামড়া ব্যবসার যে সুনাম রয়েছে তা অক্ষুন্ন থাকে।

সকল শঙ্কা কাটিয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশের চামড়া শিল্প আবারও ঘুড়ে দাঁড়াবে। ফিরবে ব্যবসায়ীদের আস্থা এমন প্রত্যাশার পাশাপাশি এবারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চামড়া শিল্পের জন্য কার্যকর টকসই পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর