,

সব ডেঙ্গুতে হাসপাতাল নয়, এসব লক্ষণ দেখলে হাসপাতালে যাবেন

news-image

ডা. সানিয়া তহমিনাঃ এবারে ডেঙ্গুর যে নতুন পরিবর্তিত রূপ দেখা দিয়েছে সেটা আমরা টের পেয়েছিলাম গত বছর থেকেই। সে অনুসারে আমরা পুরনো গাইডলাইন আপডেটের কাজ শুরু করি। তা ওয়েবসাইট, ই-মেইলের মাধ্যমে ঢাকাসহ বড় বড় সব জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের কাছে পাঠিয়ে দিই। সেটা ফলো করার জন্যও বলা হয়। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি আমরা এ বছরের পরিস্থিতি দেখে মাত্র গত সপ্তাহেই আরেকটি আপডেটেড পকেট গাইডলাইন করেছি, যা এখনো আপডেট চলছে।

আমরা এখন যেমন নতুন নতুন কিছু উপসর্গ দেখছি-শুনছি, সেগুলোও আমলে নিয়ে পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুসারে করণীয় সম্পর্কে গাইডলাইনে তোলার সুযোগ রেখেছি। সব পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়েই আমরা এ গাইডলাইন তৈরি করেছি; যেটা অনুসরণ করলে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের জন্য গাইডলাইন অনুসরণ করা একেবারেই জরুরি। যাঁদের কাছে এখনো যায়নি তাঁদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

গাইডলাইনে আমরা সাধারণ মানুষের জন্য দেওয়া পরামর্শের মধ্যে রেখেছি—প্রথম যখন জ্বর আসবে তখন রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হবে, লেবুর শরবত, ফলের জুস, ডাবের পানি, ওরাল স্যালাইন ইত্যাদি জাতীয় তরল পান করাতে হবে। সেই সঙ্গে সতর্কতার জন্য মশা থেকে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে ডেঙ্গু হয়েছি কি না। যদি কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় তবে অবশ্যই মশারি টানাতে হবে। যারা তার সঙ্গে বা একই ঘরে থাকবে তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ওই রোগীকে কামড়িয়ে কোনো নারী মশা অন্য একজনকে কামড়ালে তারও ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া বর্জনীয় হিসেবে দিয়েছি—কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না। এ ছাড়া কখন হাসপাতালে যেতে হবে সে জন্য আমরা গুরুত্ব দিয়েছি ওয়ার্নিং সাইন হিসেবে।

যেসব লক্ষণে হাসপাতালে যাবেন…. জ্বর না থাকলেও ক্রমে দুর্বল হয়ে যাওয়া, কালো পায়খানা করা, বমি করা, রক্ত আসা এবং ঘরে বসেই টুর্নিকেট টেস্ট (হাতে ব্লাড প্রেসার মাপার বেল্ট বাঁধলে রক্ত জেগে ওঠা) পজিটিভ আসার উপসর্গ দেখলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার। তা না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঘরেই বসেই চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা চলতে পারে। এ ছাড়া আরা জটিল রোগীর বা শক সিনড্রোম হলে হাসপাতালে যাওয়া তো একেবারেই জরুরি।

অন্যদিকে রোগী হাসপাতালে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। এর মধ্যে রোগী এলে ডাক্তারের ক্ষেত্রে ডাক্তার ক্লিনিক্যাল জাজমেন্ট করবেন, ক্লিনিক্যাল বা ল্যাব টেস্ট করবেন, ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট করবেন—প্লাটিলেট টেস্ট কখন করতে হবে, কখন করতে হবে না, কখন রক্ত দিতে হবে, কখন হবে না। ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কোন পর্যায়ের রোগীকে কতক্ষণ পর পর কতটুকু কোন ফ্লুইড দিতে হবে, রোগীর প্রস্রাব না হলে কী করতে হবে, কখন কী ওষুধ দিতে হবে—সব বিবরণ দেওয়া আছে গাইডলাইনে। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিদিনই চলছে করণীয় সম্পর্কে নানা প্রচার-প্রচারণা, যেদিকে সবারই নজর রাখা উচিত।

লেখক : পরিচালক, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও লাইন ডাইরেক্টর, সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সূত্রঃ কালের কন্ঠ

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর