,

ঈদকে ঘিরে গ্রাম থেকে শহরমুখী

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে শেকড়ের দিকে একদল মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছেন। বিপরীতে আরেক দল মানুষ গ্রাম থেকে শহরমুখী হচ্ছেন আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায়। তাদের কেউ ভিক্ষুক, কেউ রিকশাচালক।

সরেজমিনে গত কয়েকদিন এমন ৫ জনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক জাগরণের। তারা কেউ নিজেদের ছবি তুলতে দিতে রাজি হননি। কেননা, ছবি প্রকাশিত হলে যদি গ্রামের লোকজন জেনে যায় তাতে আত্মসম্মানের ক্ষতি হবে।

৩০ মে রাতে বনানী রেলস্টেশনে পাওয়া যায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার হোসেন মিয়াকে। ৫০ বছর বয়স্ক হোসেন মিয়া বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা কুড়াচ্ছিলেন। হাত-পা-চোখ ভালো থাকা সত্ত্বেও কেন ভিক্ষা করছেন- এ প্রশ্নে তিনি করুণভাবে বলেন, কাম পাই না।

কতদিন ভিক্ষাবৃত্তি করেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গেরামেই থাকি। ঈদ দেইখা ঢাকা আইছি। কয়টা দিন থাকলে কিছু পয়সাপাতি পামু।’

হোসেন মিয়ার মতো একই ধরনের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে রাজধানীতে আসা ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেক। মসজিদ, মার্কেট, শপিং মল, বাসা-বাড়ির আঙিনাসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাটে তাদের দেখতে পাওয়া যায়্

পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ভিক্ষাবৃত্তি করতে দলে দলে চলে এসেছেন ঢাকায়। এমনই একজন নিঃসন্তান ফুলু বেগম (৪৫)। তার সঙ্গে আরো ৫ জন শেরপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন গত ২৮ মে। তাদের উদ্দেশ্য- ঈদ উপলক্ষে মানুষের দান-খয়রাত সংগ্রহ করে একটু অর্থের মুখ দেখা।

ফুলু বেগমের সঙ্গে কথা হয় শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে বনানীর স্টার কাবাবের সামনে। ছবি তুলতে গেলে তিনি আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে বলেন, ‘ছবি তুইলেন্না, গেরামের মানুষ দেখলে খারাপ কইব।’

বিভিন্ন প্রশ্নে তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে ঢাকার স্বচ্ছল ব্যক্তিরা দান-খয়রাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এসব সংগ্রহ করতে তারা প্রতি বছরই ঢাকায় আসেন। রাত যাপন করেন মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে এক আত্মীয়ের কাছে। ঈদের পরদিন তারা চলে যাবেন বাড়িতে। গ্রামে তার দোচালা ঘর ছাড়া আর কিছু নেই। স্বামী মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ বছর আগে। এরপর গ্রামে এর-তার বাড়িতে, ক্ষেতখামারে কাজ করে চলতে হয়েছে তাকে। এসব ভারী কাজ করতে করতে একপর্যায়ে তিনি অনেকটা অচল হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে না থাকায় আর আয়ের উৎস নেই তার।

হোসেন মিয়া ও ফুলু বেগমের কথা অনুযায়ী- প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের কিছুদিন আগে তাদের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকায় আসেন ভিক্ষাবৃত্তি করতে। ঈদের পরদিন দল বেঁধে গ্রামে ফেরেন তারা। ঢাকায় এই কাজ করতে গিয়ে তারা কোনো বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন না।

অন্যদিকে, বেশ কিছু রিকশাচালকও আছেন, যারা ঈদ কেন্দ্র করে ঢাকায় আসেন উচ্চ আয়ের আশায়। এমনই একজন তাহের মিয়া। পশ্চিম রাজাবাজারের একটি গ্যারেজ থেকে রিকশা ভাড়া নিয়ে চালানো শুরু করেছেন তিনি। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় এসেছেন ৪ দিন আগে। তাহের মিয়া দৈনিক জাগরণকে জানান, এখন গ্রামে কাজ নেই। কিন্তু ঈদের সময় পরিবারের পেছনে বেশ খরচাপাতি আছে। এই টাকা ওঠানোর জন্যই তার ঢাকায় আসা।

তাহের মিয়া বলেন, ‘ঈদের সময় রিকশা দিয়া মাইনষে বেশি বেশি মার্কেটে যায়, ঘুরে। এই উছিলায় ভালো কিছু কামানি যায়। বাড়িত থাইকা কী করুম? না পারুম পোলাপানরে নতুন কাপড় কিইন্না দিতে, না পারুম বউরে শাড়ি দিতে। ঢাকায় ঈদ পার কইরা পরে বাড়িত যামু।’ দৈনিক জাগরণ

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর