,

মিঠাপুকুরে আদিবাসী স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের শিকার : লজ্জায় আত্মহত্যা, ৫ দিন পর মামলা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে প্রেমিক ও তিন বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে আদিবাসি স্কুল ছাত্রী স্বপ্না টপ্যকে। লজ্জা ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করে মেয়েটি। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাতি মির্জাপুর খোর্দ্দ নুরপুর গ্রামের আদিবাসি পল্লীতে ঘটেছে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি।

গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটলেও ৫ দিন পর গত মঙ্গলবার রাতে কথিত প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামী করে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে, কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ নুরপুর গ্রামের ওই আদিবাসি পল্লীতে গত মঙলবার সরেজিমেন গিয়ে জানা গেছে, জীতেন টপ্য’র একমাত্র মেয়ে স্বপ্না টপ্য স্থানীয় ইমাদপুর পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল।

তার সহপাঠি ও প্রতিবেশি ছাত্রীরা জানায়, রংপুর শহরের মাহিগঞ্জ এলাকার ঢোলভাঙা গ্রামের বুধুয়া মিনজির ছেলে রতন মিনজির সাথে স্বপ্নার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ১৮ এপ্রিল মোবাইল ফোনে দেখা করতে ডাকে রতন। ওই দিন বিকেলে চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয় স্বপ্না। এরপর সরাসরি প্রেমিকের সাথে দেখা করতে ঢোলভাঙা গ্রামে যায় সে। সেখানে রতন ও তার তিন বন্ধু একটি নির্জনস্থানে নিয়ে স্বপ্না এবং চাচাতো বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় স্বপ্না ও তার বোন বাড়ি ফিরে। তখন তারা অসুস্থ্য থাকলেও ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। এরপর লজ্জা এবং ক্ষোভে বিকেল ৫টায় স্বপ্না টপ্য শয়ন ঘরে তীরের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

তার প্রতিবেশি ছোটবোন ৮ম শ্রেণির ছাত্রী লিমা টপ্য, ১০ শ্রেণির ছাত্রী কল্পনা মিনজি ও চামেলী টপ্য জানায়, অনেক দিন ধরে রতন মোবাইল ফোনে স্বপ্না দিদিকে বিরক্ত করত। প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু দিদি তাতে রাজি হয়নি। পরে নানা কৌশলে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যায়। এরপর থেকে তারা মোবাইলে এসএমএসে নিয়মিত কথা বলত। কিন্তু এভাবে যে দিদিকে হারাবো, তা কখনও ভাবিনি।’

তারা আরও জানায়, রতন আমদের দিদিকে ডেকে নিয়ে খারাপ কাজ করেছে। তার সাথে যে বোনটি ছিল তাকেও লম্পটেরা নষ্ট করেছে। লজ্জায় স্বপ্না দিদি আত্মহত্যা করেছে। আমার রতনের ফাঁসি চাই।’

বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা সীতা কুজুর। মেয়ের কবরের পাশে ফ্যালফ্যা চোখে চেয়ে আছেন। অস্পষ্ট কণ্ঠে বললেন, বুকের ধন এটেকোনা শুয়ে আছে। যারা মোর বুকের ধন কোনাক নষ্ট করি ফেলাইলো, তামার ঘরে বিচার চাঁও।’ বাবা জীতেন টপ্যও জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়েছেন।

ধর্ষণের শীকার অপর স্কুলছাত্রীর মা, প্রতিবেশি পঞ্চ মিনজিসহ অনেকেই বলেন, ধর্ষক পক্ষ হুমকী দিচ্ছে-স্বপ্না তো আত্মহত্যা করেছে, এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে ধর্ষণ হওয়া অন্যজনকে মেরে ফেলা হবে।’ এই ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। ধর্ষণের মামলাও করেনি।

ঘটনার ৫দিন পর স্বপ্নার বোন পরিতা টপ্য বাদি হয়ে কথিত প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রউফ মাষ্টার বলেন, কেউ ধর্ষণ হওয়ার বিষয়টি আমাকে জানায়নি।’

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, আদিবাসি স্কুল ছাত্রী স্বপ্না আত্মহত্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি। ওই সময় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তারপরও লাশ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেম করা হয়েছে। তবে, ধর্ষণের বিষয়টি জানার পর স্বপ্নার স্বজনকে ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর