,

ব্রাহ্মনবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসে অনিয়মের যেন শেষ নেই, সাধারন মানুষের ভোগান্তি চরমে

news-image

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসে যেন অনিয়মের শেয নেই। এ সব অনিয়ম দুর্নীতি যেন অনেকটা নিয়মে পরিনত হয়েছে। এখানে আসা জমির ক্রেতা বিক্রেতা তাদের কাছে যেন অনেকটাই অসহায়। নির্ধারিত ফ্রি থেকে দিতে হচ্ছে কয়েক গুন অতিরিক্ত অর্থ। এতে ভোগান্তি আর দুর্ভোগ যেন চরমে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রারি আফিসে সাবকবালা, হেবা বিল এওয়াজ, হেবা বিষয়ক ঘোষনা, বাইনামা দলিল ও বন্টন নামা সহ বিভিন্ন ধরনের দলিলের কাজ সম্পাদন হয়ে থাকে। জানা যায়, বিগত বছরে এ অফিসে ১৭হাজার ৮শত ৪১টি দলিল হয়।

এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ১০কোটি ৫৩লক্ষ ৯১হাজার ৮শত ৬৫টাকা। চলতি বছরের ২মাসে ৩ হাজার ৩৯টি দলিল হয়। এতে রাজস্ব আসে ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ২৮৪ টাকা। তবে এসব দলিলে সরকারী নির্ধারিত ফি থাকলেও অফিসের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে ও দলিল লেখকদের সহায়তায় বেশ কয়েকটি চক্র নির্ধারিত ফি থেকে কয়েক গুন বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এখানে আসা ক্রেতাদের কাছ থেকে। অফিস সূত্র জানায়, প্রতিদিন এখানে গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি দলিল সম্পাদন হয়ে থাকে। ক্রেতাদের অভিযোগ তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু চক্রটি। এছাড়া নকল দলিল ও তল্লাশির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কয়েক গুন টাকা দিতে হচ্ছে অফিসের সংশ্লিষ্টদের এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা। দলিল তল্লাশি বাবদ প্রথম ও ২য় বই থেকে ১৫ ও ১০টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও দায়িত্বরত কর্মচারী সেই ক্ষেত্রে প্রতি বই থেকে ১০০টাকা হারে নিচ্ছে। নকল দলিলের ক্ষেত্রে ৪শ ১৫টাকা সরকারী ফি থাকলেও প্রতি দলিলে রেকর্ড কিপার নিচ্ছেন ১২শ থেকে ১৫শ টাকা।

এ যে অনিয়ম দুর্নীতির এক মহোৎসব চলছে। অনেকটাই অসহায় এখানকার ক্রেতারা। তারা বলেন অতিরিক্ত অর্থ দিতে আমাদের কষ্ট হয় এবং সরকারী ফি কত আমরা জানতে পারছি না। এতে করে সব ক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হচ্ছি। দলিল করতে আসা শাহ্ আলম ও খুরশেদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কোন দলিলে কত টাকা সরকারী নির্দিষ্ট ফ্রি এখানে কোনো চাট লাগানো না থাকাতে অ সাধু কর্মচারীরা ও এক শ্রেনীর দলিল লেখকরা তাদের ইচ্ছে মত টাকা গ্রহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা দলিল সম্পাদনের সময় এই কাগজ সেই কাগজের কথা বলে নিজের খুশি মত টাকা নিচ্ছেন। এ অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। সবাই সিন্ডিক্রেট করে বসে আছে। এতে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিস রেকর্ড রুমের দায়িত্ব থাকা রেকর্ড কিপার মোঃ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন । তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) আজমল হোসেন বলেন, আমাদের যে কাঠামো সে খান থেকে শতভাগ সেবা দেয়া সম্ভব নয়। এবিষয়ে জনগনকে আরো সচেতন হতে হবে। অতিরিক্তি অর্থ আদায়ের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার ঘাটতিতে কোনো ছাড় নয় : ডিসি ফরিদা

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বড় সুখবর

দাম্পত্য জীবনে সুখের ‘রেসিপি’ জানালেন শুভ

চাপ দিয়ে লংমার্চ থামানো যাবে না, চাবিকাঠি ইমরান খানের হাতে: পিটিআই

বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম, কার্যকর মধ্যরাত থেকেই

বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ দ্রুত বাস্তবায়নে জার্মান রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বারোপ

পুতিনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন ইরান প্রেসিডেন্ট, ফোনালাপে আর কী কথা হলো?

আবরার হত্যা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার চেষ্টা ছিল: রিজভী

ইয়েমেনে জীবনের তাগিদে ভিটেমাটি ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ

যুদ্ধ থামাতে ইরানকে নতুন শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের

ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশে আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী