,

জমি সংক্রান্ত বিরোধ: নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

news-image

চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাসুরের ছেলেদের হাতে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন এক নারী। এ সময় নির্যাতনকারীরা ওই নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারধর করে। শুধু তাই নয়, রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় বাড়ির উঠোনে দীর্ঘসময় ফেলে রাখা হয়।

পরে এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এই ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্ত সুমন ও মিজানসহ আরও দুইজন এলাকা ছেড়ে গাঢাকা দিয়েছেন। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার আলিপুর গ্রামের মোল্লাবাড়িতে এই অমানবিক এই শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নির্যাতনের শিকার নারী ভেলুয়া খাতুনের পবিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র সাড়ে ২৮ শতক জমি নিয়ে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মো. শহীদউল্লাহ‘র বড় ভাইয়ের ছেলে মিজানুর রহমান, সুমন হোসেন ও মানিক হোসেনের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন গত সোমবার বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে সীমানা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে দু’পক্ষের ঝগড়া হয়।

পরে ওই তিন ভাই তাদের চাচি ভেলুয়া খাতুনকে (৫০) শক্ত রশি দিয়ে বাড়ির আম গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তারা তাকে বেদম মারধর শুরু করে। শুধু এতেই ক্ষান্ত না হয়ে তারা উঠোনে ফেলেও মারধর করতে থাকে ওই নারীকে। এই ঘটনার সময় ওই নারীর স্বামী সন্তান কেউই বাড়িতে ছিলেন না।

এমন অমানবিক ঘটনার সংবাদ পেয়ে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী মো. শহীদউল্লাহ শাহরাস্তি থানা পুলিশকে জানান। এ সময় থানার উপ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতিতা নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

নির্যাতিতার বড় ছেলে মো. শাহজাহান জানান, মাত্র সাড়ে ২৮ শতক ভূমি নিয়ে তিন জেঠাতো ভাই এবং কাজল বেগম আরেক নারী মিলে তাঁর মাকে একা পেয়ে এমন বর্বর নির্যাতন করে। তিনি আরো বলেন, তাঁর বাবা মো. শহীদউল্লাহ এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী। তিনি ফেরি করে বিভিন্নস্থানে ঘুরে ঘুরে পুরানো মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করে সংসার চালান।

নির্যাতিতার স্বামী মো. শহীদউল্লাহ জানান, তাঁর স্ত্রীকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এমন ঘটনায় তিনি চাঁদপুরের বিচারিক আদালতে গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত ওই চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এমরান হোসেন জানান, তাদের এলাকায় এমন অমানবিক ঘটনা আর কখনো ঘটেনি। তিনি আরো জানান, ঘটনার জন্য দায়ী মৃত আবু তাহেরের দুই ছেলে মিজান ও সুমন প্রবাসে থাকেন। তারা এই দুইভাই দেশে ফিরে আরো কয়েকজনের সহায়তায় সামান্য জমির দাবি নিয়েতাদের চাচির ওপর এই নির্যাতন চালান।

শাহরাস্তি থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়েছে। তিনি বলেন, এই নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে পুলিশ নির্যাতিতাকে উদ্ধার করেছে এবং থানায় মামলা দিতে বলেছে। কিন্তু বাদী তা না করে আদালতে মামলা করেছে। তারপরও পুলিশ স্বউদ্যোগে আসামিদের আটকের চেষ্টা করছে।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর