,

বাগেরহাটে উপজেলা নির্বাচনে ফাঁসির আসামি!

news-image

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কালিদাস বড়াল হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন আলমগীর সিদ্দিকী ওরফে হোসেন। যাঁকে নিম্ন আদালত ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন। উচ্চ আদালতে সম্প্রতি খালাস পেয়ে সেই পরিষদেরই চেয়ারম্যান পদে তিনি নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। যদিও খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।

আলমগীর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। তাঁর নামে গতকাল বুধবার মনোনয়নপত্র কেনা হয়েছে।

গতকাল চিতলমারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ জানান, মনোয়নপত্র বিক্রি হয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে রহমতপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও দক্ষিণ শৈলদাহ গ্রামের এস এম মনিরুজ্জামান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিলন কান্তি বাড়ৈ। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিবানী বিশ্বাস ও সুলতানা মল্লিক। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৪ মার্চ, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ৬ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৩ মার্চ এবং ভোটগ্রহণ ৩১ মার্চ।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ২০ আগস্ট বাগেরহাট শহরের সাধনা মোড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কালিদাস বড়ালকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি ছিলেন চিতলমারী উপজেলার একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এই হত্যা মামলায় ১৭ জনের মধ্যে প্রধান আসামি ছিলেন আলমগীর হোসেন। এই হত্যার প্রতিবাদে মাসাধিককাল ধরে প্রতিবাদ ও জনসভা হয়েছিল। এ ঘটনা তখন সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হত্যার ১৩ বছর পর বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আসামিদের মধ্যে ৯ জন বেকসুর খালাস পান। এদিকে আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন এবং যাবজ্জীবন সাজার তিন আসামিকে খালাস দেন। আসামিদের করা আপিল ও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিকরণের আবেদন) শুনানি শেষে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া চিতলমারী উপজেলার রহমতপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর দুই ছেলে আলমগীর ও নাছির সিদ্দিকী এবং কলাতলা গ্রামের সোনা মিঞা সরদারের ছেলে স্বপন খালাস পান। এর মধ্যে আলমগীর জেলে, বাকিরা পলাতক।

এ বিষয়ে কালিদাসের বড় ভাই চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, চরবানিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অশোক কুমার বড়াল বলেন, ‘আলমগীর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিধায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে।’

নিহত কালিদাসের স্ত্রী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে সাবেক সদস্য ও হত্যা মামলার বাদী হ্যাপী বড়াল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের যে রায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আলমগীরসহ অন্যরা খালাস পেয়েছিল তার বিরুদ্ধে ফের আপিল করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ফাঁসি এখনো বহাল।’

চিতলমারী পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিপ সাহা কালা বলেন, ‘কালিদাস বড়াল হত্যা মামলার মূল আসামির নামে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র কেনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে কিভাবে মনোনয়নপত্র কেনাবেচা হয়, এটা বোধগম্য নয়। জনপ্রিয় নেতা আইনজীবী কালিদাস বড়াল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাগেরহাট জেলার সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাকারীরা ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত। আমরা অবিলম্বে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।’

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর