,

‘বাংলাদেশে এসে গাড়ি চালানোর সাহস হয়নি’

news-image

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, আমি আমেরিকাতে ১৫ বছর গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু এদেশে গাড়ি চালানোর সাহস হয়নি।

শনিবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘ট্রাফিক সচেতনতামূলক সমাবেশে’ বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জাফর ইকবাল বলেন, আমাকে দেখে কি মনে হয়, আমি গাড়ি চালাতে জানি? দীর্ঘ ১৫ বছর গাড়ি চালিয়েছি। তবে এদেশে নয়। আমেরিকাতে নিজের গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু এদেশে এসে গাড়ি চালানোর সাহস হয়নি। এখানে যেভাবে গাড়ি চলে, মনে হয় না আমি গাড়ি চালাতে পারবো।

আমেরিকাতে একবার গাড়ি চালাচ্ছিলাম, কিন্তু ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষ-গাড়ি নাই। তারপরেও রাস্তায় লাল বাতি জ্বলল, আমি থেমে গেলাম। কি বোকাআমি।

প্রত্যেকদিন পত্র-পত্রিকার কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। একটু সতর্ক হলে ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। আমাদের বাস চালকদের হওয়ার কথা ছিলো পাইলট। কিন্তু পাইলট না হয়ে বাসচালক হওয়ায় বাসটাকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চান। ওই লোকটা তাড়াহুড়া করে কোথায় যাচ্ছে, গন্তব্যে নাকি একেবারে আল্লাহর কাছে?

আমাদের দেশে রাস্তায় অনেক গাড়ি উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, রাস্তায় গাড়ি নাই মানে দেশটার উন্নতি হয় নাই। একটা দেশ উন্নত হওয়া শুরু করলে রাস্তায় প্রচুর ট্র্যাফিক হয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। এখন এটাকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ পেরেছে, বাংলাদেশও পারবে। আশা করছি একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বাহবা দিয়ে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, তোমরা দেখিয়ে দিয়েছ, অ্যাম্বুলেন্স-রিকশার জন্য আলাদা লেন রয়েছে। বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে, তার‍া কেউ আইন ভঙ্গ করে না। কিন্তু বাংলাদেশে কেন করে?

প্রত্যেকের মধ্যে সমানভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আইন অমান্য করে কেউ যেন পার না পায়। এখানে যারা উপস্থিত আছে তারা যদি আইন মানে এবং আরো ১০ জন বন্ধুকে আইন মানতে বাধ্য করে। তারা যদি আরো ১০ জনের দায়িত্ব নেয়, তাহলে ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবর্তন হয়ে যাবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ম তামিম বলেন, আমাদের মধ্যে আইন ভাঙার প্রবণতা বেশি। কারণ, সবাই আইন ভেঙে পার পেয়ে যায়। আইন ভেঙে কেউ যেন পার না পেয়ে যায়, পুলিশকে তেমন কঠোর হতে হবে।

ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ বলেন, আমরা একইসঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবো না। সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন হতে হবে। ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তরুণ সমাজকে দায়িত্ব নিয়ে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে এতো অনিয়মের মধ্যে দেশটা কতো সুন্দর। এদেশে কতো ট্যালেন্ট। ছোট ছোট মিসটেকগুলো ঠিক করলে আমাদের দেশটা সত্যিই অন্যরকম হবে।

চলচ্চিত্র অভিনেতা আহমেদ শরীফ বলেন, সপ্তাহে অন্তত একটা দিন আমরা সেলিব্রেটিরা নির্দিষ্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে পারি কি না বিষয়টি ভেবে দেখবেন। সবাই মিলে একটা দিন চেষ্টা করলে আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর