,

পরিতৃপ্তির ছোট্ট এক গল্প!

news-image

পরিতৃপ্তির যথার্থ অর্থ প্রয়োগ এক্ষেত্রে হয়েছে কি না তার মূল্যায়ন করতে যাব না। তবে অভিধানে পরিতৃপ্তি একটি বিশেষণ পদ এবং এর অর্থ হল ‘গভীর তৃপ্তি’। এমনই এক গভীর তৃপ্তির গল্প আজ আপনাদের শোনাবো।

তার নাম জাকির। রিকশা চালায়। বয়স ১৭ হবে। বাবা মারা যাওয়ার পর কপালে জুটেনি পড়াশোনা।

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জাকির আমার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানে লাগানো খাবারের ছবিগুলো দেখে আর কি যেন ভাবে। প্রতিদিনই জাকিরের এই কাজটা আমি লক্ষ করি।

আজও রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জাকির। আমি তাকে ভেতরে আসতে বললাম। সে হতবম্ব হয়ে ভয় পেয়ে বলল, ‘চইলা যাইতাছি মামা’।

আমি বললাম ভেতরে আসো কথা আছে…

কিছুটা ভয় নিয়ে ভেতরে আসলো জাকির। আমি সামনের টেবিলে বসতে বললাম। বললাম কিছু খাবা?

ও বলল টাহা! মানুষ আহে নাই গ্রাম দিয়া একটা ক্ষ্যাপ দিছি মামা। খাইতে গেলে বাসায় চালও নিতে পারমু না। বাসার কথা বলতেই জিজ্ঞাসা করলাম বাসায় কে কে আছে?

বলল, ছোট বোন আর মা। যাই হোক বুঝেছিলাম ওর আকাশ চুম্বি খুদা লেগেছে। বললাম কি খাবা বলো, সমস্যা নাই আমি ভাই হিসেবে আজ তোমাকে খাওয়াবো। সে খাবে না, বলল না মামা খামু না। আমি জোর করেই বসালাম এবং বললাম কি খাবা বলো, না খেলে যাইতে দিব না।

বলল, মামা ওই যে গোল গোল রুটির মত যেটা বিক্রি করে ওইটা। আমি বুঝেছি সে পিজ্জার কথা বলতেছে।

যাই হোক, ওকে পিজ্জা দিলাম আর বললাম পিজ্জা চেনো? বলল একবার মিরপুর ২ এ রাতে এক প্যাকেট ফালানো পিজ্জা ওকে দিছিল কেউ একজন। খাইয়া নাকি অনেক মজা পাইছে।

বললাম প্রতিদিন কি দেখ আমার দোকানের পোস্টারে? বলল ওই যে গোল রুটির ছবি, ম্যালা দাম তাই দেখি। ছোট বইন ডারে গল্প বলছিলাম এই গোল রুটির। ওরে খাওয়ামু খাওয়ামু কইরা হয় না।

ছোট বোনের ভালবাসা আর ক্ষুধার যন্ত্রণা এই দুইয়ের কম্বিনেশনের ব্যাখ্যা আমার থেকে বেশি কেউ জানে না!

জাকিরকে ছোট একটা পিজ্জা দেই খাওয়ার জন্য। খেতে খেতে একটা চকচকা হাসি দিল সে। অর্ধেক খাওয়ার পর বলল মামা বাকিটা নিয়া যাওয়া জাইব? মা আর ছোট বোনটার জন্য নিয়া যামু।

আমিও একটা চকচকে হাসি দিয়ে বললাম ওটা তুমি খাও। তোমার মা আর ছোট বোনের জন্য আমি ওই গোল রুটি (পিজ্জা) দিয়ে দিচ্ছি আলাদা করে। সে মহা খুশি।

তারপর সে তার পকেট থেকে যে কয়টাকা রোজগার করেছিল সেটা আমকে দিতে চাইলো (৮০ টাকা হবে)।

আমি বললাম, মাইর দিয়া সোজা কইরা দিমু যাও। এটা বড় ভাই হিসেবে খাওয়াইলাম। অবশেষ এক পরিতৃপ্তি আমাকে আকরে ধরল। বুক ভরে একটা নিশ্বাস নিতে পারলাম। মনে হল মহান আল্লাহ রাব্বুল খুশি।

আমাদের সমাজের কিছু মানুষ সুখ খুঁজে বেরায় লক্ষ কোটি টাকার পেছনে। অথচ সুখ আমাদের আসে পাশেই ভরপুর। সত্যি বলতে সুখটা বোঝার জন্য মনের একটা আলাদা ক্ষমতা থাকার প্রয়োজন। অবশ্য সেই ক্ষমতা সব মানুষের থাকে না।

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর