,

ঢাকায় অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ২ পথশিশুর লড়াই

news-image

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় ঢাকা। ‘ঢাকায় টাকা ওড়ে’; কিন্তু এ উড়ন্ত টাকা যারা ধরতে অক্ষম, তাদের প্রতিটি দিন এক একটি নির্মম গল্পকেও হার মানায়।

এখানে কংক্রিটের দেয়ালে যেভাবে চাপা পড়ে যায় সকালের সোনা রোদ, সেভাবেই চাপা পড়ে থাকে অভাবী অসহায় নিরণ্ণ মানুষের হাহাকার।

এই ইট-কাঠ-পাথরের শহরে বিত্তশালীদের বিলাসী জীবনের ঝলকানিতে যেমন চোখ ধাঁধিয়ে যায়, তেমনি নিরণ্ণ ছ্ন্নিমূলদের অসহায় জীবনের করুণ কাহিনি ছুটন্ত মানুষকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।

অনেক সময় হয়তো পেছনে তাকানোর ফুরসত টুকুও মেলে না। কিন্তু চোখে আটকে থাকে এমন কিছু দৃশ্যপট, যা আপনাকে বারবার ভাবতে বাধ্য করবে- জীবনের মানে কী? বিলাসের ঝলকানিই কি জীবন, নাকি দুর্বল হাতের অশ্রুসজল চোখের অসহায় লড়াইটাই জীবন?

রাজধানীর ধানমণ্ডির সোবহানবাগ মসজিদ এলাকার এক মানবিক দৃশ্যপট তুলে ধরে জীবন সম্পর্কে আমাদের এমনই প্রশ্নের মুখোমুখি করেছেন দৈনিক ইত্তেফাকের সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল।

শনিবার সোবহানবাগ মসজিদ থেকে ২০০ গজ দক্ষিণের ফুটপাতে এক ছিন্নমূল অসহায় মাকে বাঁচাতে তার দুই শিশুসন্তানের লড়াইয়ের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ক্যামেরাবন্দি করেন জুয়েল।

ছবিতে দেখে যায়, একজন অসুস্থ মা ফুটপাতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। পাশে তার দুই অবুঝ সন্তান। মাতৃসেবায় ব্যস্ত এ দুই ছোট্ট শিশু। মাথায় পানি ঢেলে মায়ের জ্বর প্রশমন করার চেষ্টা করছে বড় ছেলেটি। পাশে কারা যেন রুটি, কলা রেখে গেছে।

পানি রাখার জন্য কোনো পাত্রও নেই তাদের। কুড়িয়ে পাওয়া মিনারেল ওয়াটারের বোতলেই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে শিশুটি।

ছোট ছেলেটি আর কিছু করার ক্ষমতা নেই দেখে বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে মাথা ঠেকিয়ে রেখে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে।

শনিবার রাতে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছবিটি শেয়ার করে জুয়েল লিখেছেন- ‘একজন অসুস্থ মা ও তার দুই অবুঝ সন্তানের মাতৃসেবা… মা-দের এমন অসুস্থ অবস্থায় দেখলে কষ্ট লাগে, একেবারে দিলে লাগে কষ্টটা।

সে মা ও তার শিশুদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে রোববার দুপুরে সাইফুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।

জুয়েল যুগান্তরকে জানান, মা ও দুই শিশুর ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করার পর অনেকেই তাকে ফোন করে স্থানটি কোথায় তা জানতে চেয়েছেন। ঢাকার বাইরে থাকেন এমন কয়েকজনও সাহায্যের হাত বাড়াতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তবে তিনি জানান, সকাল অবধি তেমন কেউ এই দুস্থ, অসহায় মা ও সন্তানদের দেখতে আসেননি।

ছবিটি প্রকাশের পর অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন- ‘কী কষ্টের ছবি! হৃদয়বিদারক দৃশ্য, আল্লাহ তুমি এদের হেফাজত করো।’

আরেকজন লিখেছেন- একটা ছবি অনেক কথা বলে। ছবি দেখে কেউ না কেউ তো পাশে দাঁড়াবে।

ছবিটি শেয়ার করে একজন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন- একজন মানুষ হিসেবে মৌলিক কিছু অধিকার না পেলেও চিকিৎসা পাওয়া উচিত। তিনি আরও লিখেন- এই অসুস্থ একজনকে মাড়িয়ে চলে যান নগরীর লাখো মানুষ৷ কারও চোখে পড়ে, কারও পড়ে না৷ উচ্চবিত্তের কাছে এ ছবি যেন নিছক শিল্পকর্ম বলেও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন একজন।

ঢাকা শহরে এমন চিত্র অহরহ৷ অসংখ্য মানুষ এ মেগাসিটির ফুটপাতে ঘুমায়। যারা এ দেশের নাগরিক হয়েও যেন পরবাসী।

কক্সবাজারে পাহাড়ের পাদদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যসহ থাকার জায়গা হলেও ঢাকার ছিন্নমূল মানুষদের ফুটপাত ছাড়া আর কোথাও ঠাঁই হয় না।

এমনকি টাকা না থাকায় কোনো হাসপাতাল বা মাতৃসদনে ঠাঁই না হয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন এমন ঘটনার সাক্ষীও হয়েছে ঢাকা।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর