,

এখনো আতঙ্ক কাটেনি উগান্ডায় ফুটবল বিশ্বকাপে বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্রেন্ডার

news-image

বিশ্বকাপ ফুটবল সবার জন্যই সবসময়ই বড় উৎসবের একটি স্থান। কিন্তু উগান্ডায় সেটি যেন এক দুঃস্বপ্নের স্মৃতিচারণ। ২০১০ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখার সময় এক বোমা হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছিলো। ইসলামপন্থী জঙ্গি গ্রুপ আল সাবাব ঐ হামলার দায়ও স্বীকার করেছে। কিন্তু এখনও অনেকে সে হামলার ভীতি বহন করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে এরকম আর যাতে না ঘটে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমনই একটি তথ্য। সেখানে বোমা হামলার ঘটনা স্মরণ করছিলেন জীবিতদের একজন ব্রেন্ডা নাইওয়েনজা। যেটি ছিল উগান্ডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমা হামলা।

ব্রান্ডা নাইওয়েনজা বলেন, আমার চেয়ারের বাম পাশে রক্ত দেখতে পাই। তখন আমি মনে করেছিলাম এটা অন্য কারো। কিন্তু আমি আসলে জানতাম না সেটি ছিলো আমারই রক্ত। এর পরেই লক্ষ্য করি মানুষের শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ আমার চারদিগকে ছড়িয়ে রয়েছে। আমি তখন শুধু নিজের শরীর থেকে সেগুলো পরিস্কার করার চেষ্টা করছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই যে, আমি একটু দেরি করে স্টেডিয়ামে পৌঁছেছিলাম। আমার মনে হয় যদি আগে পৌঁছাতাম তাহলে সামনের দিকে ঠিক সেই জায়গাতেই বসতাম, যেখানে বোমাটির বিস্ফোরণ হয়।

আল সাবাবের ঐ হামলায় অসংখ্য মানুষ নিহত হয়। উগান্ডা আর ইথিওপিয়া যৌথভাবে সোমালিয়ায় যে অভিযান পরিচালনা করছিলো তার জবাব দিতেই তাদের ঐ হামলা করেছিলো আল সাবাব। আর তখন বেশিরভাগ মানুষ ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা উপভোগ করছিলো।

সেখানকার একটি অভিজাত হোটেলে মডেলদের ফটোশ্যুটের নির্দেশনা দিচ্ছেন ব্রান্ডা। বোমা হামলা থেকে রক্ষা তাকে আরও ধীর সংকল্প করে তুলেছে এবং এরপরেও তিনি মিস উগান্ডায় সুন্দরী প্রতিযোগীতার আয়োজন করতে শুরু করেছেন। কিন্তু তিনি স্বীকার করেন পুরো ঘটনাটি এখনও তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। তিনি বলেন, কোথাও বড় ভিড় থাকলে আমি সেখানে যেতে বা ঠিকভাবে আনন্দ করতে পারি না। এটা আমার জন্য একটা বড় সমস্যা। আমি জানি না এই ভয়টা আমি কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবো কি-না।

উগান্ডার শহরতলীর একটি বারে একদল মানুষ বিশ্বকাপের খেলার তালিকা দেখছেন। তাদের অনেকেরই পুরোপুরি আস্থা নেই যে, আবার এরকম বড় হামলা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি ব্যবস্থা নিয়েছে কি-না।

৭০ বছরের এরকম একজন ফুটবল ভক্ত রয়েছে। তার নাম রোমান কানওয়েরো। তিনি বলেন, ২০১০ সালের আগে এরকম সব এলাকা যেন ফুটবলের গ্যালারী হয়ে যেত। এখানে সবাই এসে খেলা দেখতো। কিন্তু আপনি এখন যেখানেই যান সেখানে কাউকেই দেখতে পাবেন না। কারণ সবাই এখন খেলা বাড়িতে দেখে।

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমিলিয়া কায়িমা বলছিলেন, ঐ বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে পুলিশ তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে। তিনি উগান্ডার নাগরিকদের প্রতিও অনুরোধ করেন যেন তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সহায়তা করেন।

জঙ্গি গোষ্ঠী আল সাবাবের নতুন কোনো হামলা ঠেকানো শুধুমাত্র উগান্ডানদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাদের পশ্চিমা মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। এই মহাদেশে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তারাও বেশ মরিয়া।

তবে এতো কিছুর পরও ব্রান্ডার মতো অনেকে এখনও ফুটবল ভালোবাসে। তিনি তার তিন বছরের মেয়ে জারাকেও ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ ক্লাবে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। ফুটবল নিয়ে মেয়ের আনন্দ তার সেই অতীতের স্মৃতির ক্ষত কাটাতে সহায়তা করছে।-বিবিসি বাংলা

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর