,

প্রচণ্ড শীতে আরও ৭ জনের মৃত্যু

news-image

দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতের দাপট এখনও অব্যাহত রয়েছে। তীব্র শীতে কুড়িগ্রাম, রংপুর, সুনামগঞ্জের ছাতক ও কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে শিশুসহ আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সমকালের রংপুর অফিস ও প্রতিনিধিরা এ খবর দিয়েছেন।

ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতকের হাওরে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে গিয়ে শীতের তীব্রতায় আবদুল মনাফ (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিংচাপইড় গ্রামের মৃত আজমান আলীর ছেলে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সিংচাপইড় গ্রামের পাশের চাউলি হাওরে তিনি ধানের চারা রোপণ করছিলেন। বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে ঠাণ্ডায় আবদুল মনাফের হাত-পা অবশ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অন্য কৃষকরা স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ): মিঠামইন উপজেলার কাঠখাল ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে ঠাণ্ডাজনিত রোগে রাজীব (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া একই উপজেলার ঢাকি ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শিমুল (৬ মাস) নামের অপর এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মিঠামইন উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমান জানান, ঠাণ্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি নেই। তবে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক শিশু ও বৃদ্ধ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে কোনো শিশু মারা যায়নি।

অন্যদিকে, ‘কোল্ড ইনজুরিতে’ ফসলের বীজতলাসহ জমির ধানের চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে মিঠামইনে দক্ষিণে বড় হাওরে কৃষকরা কোনো জমি রোপণ করতে পারছেন না। কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডার কারণে হাওরে জমি রোপণ কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে সর্দি-কাশি-জ্বর-শ্বাসকষ্ট-ডায়রিয়া-নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এসব রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। ফলে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে এখন রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। এ হাসপাতালে আরও ৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ নিয়ে শীতজনিত রোগে এই হাসপাতালে গত ১২ দিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ডা. আবু তাহের মো. আনোয়ারুল হক প্রামাণিক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হৃদরোগে মকবুল হোসেন (৫২), উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে সুফিয়া খাতুন (৮৫) এবং প্রতিবন্ধী রাফসান (৩) রক্তশূন্যতায় মারা গেছেন।

এ ছাড়া ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ২০ শিশুসহ ২৪ জন এবং নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০ শিশু এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, কুড়িগ্রামে আবারও তাপমাত্রা কমেছে। রাজারহাট কৃষি ও সিনপটিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা কমেছে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর: রংপুরে ঠাণ্ডায় আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ আবদুল করিম (৫০) নামের আরও এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ জনে।

রংপুর মেডিকেলের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মোট রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শীত থেকে বাঁচতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে আসা। দগ্ধ এসব রোগীর মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও ১০ রোগী।

রংপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, শুক্রবার রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, গত ৩০ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে রংপুর। তবে ২/১ দিনের মধ্যেই তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়তে থাকবে।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর